বিশ্বকাপ হবে আরও আকর্ষণীয়

‘

বিশ্বকাপ ফুটবল, যার শুরু ১৯৩০ সালে। চলতে চলতে সেটার ইতিহাস এখন ৯৬ বছরের। চার বছর পর শতবর্ষী এক অশ্বত্থে পরিণত হবে তা। এ সময়ে ঘটেছে অনেক ঘটনা, দুর্ঘটনা।

১৯০৪ সালের ২১ মে প্যারিসে ফিফা প্রতিষ্ঠার দুই দিন পর সাতটি দেশের সমর্থন নিয়ে প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ফ্রান্সের রোবের্তো গুয়ের। খেলাটির অসম্ভব জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও নাক উঁচু ইংরেজরা ফিফা থেকে দূরে থাকে। ইংল্যান্ডের বাইরে ফুটবল হয় নাকি-এ ধরনের উন্নাসিক মনমানসিকতার কারণেই নিজেদের সরিয়ে রাখে। আ্যান্টওয়ার্পে ১৯২০ সালের ফিফা কংগ্রেসে সদস্য দেশগুলো প্রাথমিকভাবে বিশ্বকাপের প্রয়োজনীয়তার কথা উপলব্ধি করে মৌখিকভাবে সেটা মেনে নেয়। চার বছর পর ১৯২৪ সালে শর্তযুক্ত অলিম্পিক ফুটবল আয়োজনের দায়িত্ব ফিফার ওপর অর্পিত হয়। অলিম্পিকের ছায়া থেকে বের হয়ে আসা এবং বিশ্বের সেরা পেশাদার ফুটবলারদের নিয়ে আলাদা বিশ্ব প্রতিযোগিতা আয়োজনের ভাবনা থেকেই তৎকালীন ফিফা সভাপতি জুলেরিমের নির্দেশে ১৯২৮ সালের ফিফা কংগ্রেসে প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। প্রস্তাবটি ২৫-৫ ভোটে জিতে যাওয়ায় বিশ্বকাপ ফুটবল হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। আশ্চর্যজনকভাবে বিশ্বকাপের বিপক্ষে ভোট দিয়েও সুইডেন প্রথম টুর্নামেন্টের আয়োজক হতে আগ্রহ দেখায়। তবে অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েই শেষ পর্যন্ত স্বাগতিক হওয়ার গুরুদায়িত্ব পায়। হাঙ্গেরি, ইতালি, জার্মানি, স্পেনের মতো ইউরোপের বাঘা বাঘা দলগুলো এ বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখে। আবার তখন ফিফাতেই নেই ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের মতো দল। তারপরও মোট ১৩টি দল অংশ নেয় ১৯৩০ সালের উদ্বোধনী বিশ্বকাপে। ইমরুল হাসান, সিনিয়র সহসভাপতি, বাফুফেচার গ্রুপের শীর্ষ চার দল সরাসরি খেলে সেমিফাইনাল। অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে কাপটা নিজেদের কাছেই রেখে দেয়। ১৯৩৪ সালের দ্বিতীয় বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ১৬ দল। তবে অংশ নেয়নি চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেই প্রথম (সম্ভবত শেষবার) কোনো দেশ শিরোপা ধরে রাখার আগ্রহ দেখায়নি। ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি বিশ্বকাপেই দলসংখ্যা ছিল ১৬টি। ব্যতিক্রম ব্রাজিলে হওয়া ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ। যে আসরে দলসংখ্যা ছিল ১৩টি। ছিল না কোনো ফাইনাল ম্যাচও। ফাইনালবিহীন বিশ্বকাপ ওই একবারই। ১৯৮২ সালে ফিফার সিদ্ধান্তে দলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৪। ১৯৯৪ বিশ্বকাপ পর্যন্ত অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ২৪-এ সীমাবদ্ধ ছিল। ১৯৯৮ সালে দলসংখ্যা ৩২-এ উন্নীত করে ফিফা। আর এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেবে ৪৮টি দল। যা এ পর্যন্ত হয়ে যাওয়া সব বিশ্বকাপের মধ্যে সর্বোচ্চ। অনেকের আশঙ্কা এত দলের অংশগ্রহণে বিশ্বকাপ তার জৌলুশ হারাবে। আমার কাছে কিন্তু সেটা মনে হয় না। বরং ‘রাউন্ড অব ৩২’-এর অন্তর্ভুক্তির কারণে বনেদি দলগুলোর দুর্ঘটনাবশত একটি ম্যাচ হেরে প্রথম রাউন্ডেই বাদ পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ক্ষীণ হয়ে আসবে। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বজায় থাকবে একেবারে শেষ পর্যন্ত। যা বিশ্বকাপকে করে তুলবে আরও বেশি আকর্ষণীয়, চিত্তাকর্ষক ও উত্তেজনাপূর্ণ। আমরা সমর্থকরা স্বপ্ন দেখি সেরকম জমজমাট একটি বিশ্বকাপের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights