বিষাক্ত কেমিক্যালে তৈরি হতো দুধ, ভ্রাম্যমাণ অভিযানে ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড
পাবনা প্রতিনিধি
সাদা দুধের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে ভোজ্য তেল, কস্টিক সোডা, ননবিয়ার কেমিক্যাল ও চিনি মিশিয়ে গোপনে তৈরি করা হচ্ছিল কৃত্রিম বা ভেজাল দুধ। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এক আকস্মিক অভিযানে ধরা পড়েছে পুরো সিন্ডিকেট।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের সিংগাড়ি গ্রামে এই অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন।
ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২০০ লিটার প্রস্তুতকৃত ভেজাল দুধসহ বিপুল পরিমাণ বিপজ্জনক রাসায়নিক উপকরণ জব্দ করা হয়। এ সময় হাতে-নাতে আটক করা হয় অসাধু ব্যবসায়ী আশরাফুল আলীকে (৪২)। তিনি সিংগাড়ি গ্রামের মো. নুর ইসলামের ছেলে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে আশরাফুল আলীর বাড়িতে গোপনে ভেজাল দুধ তৈরি করে বাজারজাত করা হচ্ছিল। সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত হয়ে রাতে বাড়িটি ঘেরাও করে তল্লাশি চালায় প্রশাসন। তল্লাশিকালে ২০০ লিটার কেমিক্যাল মিশ্রিত দুধের পাশাপাশি নকল দুধ তৈরির প্রধান উপাদান কস্টিক সোডা, ভোজ্য তেল, ননবিয়ার কেমিক্যাল ও প্রচুর পরিমাণে চিনি উদ্ধার করা হয়।
অভিযান শেষে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুজ্জামান। খাদ্যে বিষাক্ত কেমিক্যাল মেশানোর অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ভোক্তা অধিকার ও খাদ্য নিরাপত্তা আইনে আশরাফুল আলীকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পুরো অভিযানে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ নিরাপত্তা জোরদারে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ভেজাল খাদ্য প্রস্তুতকারকদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান সম্পূর্ণ ‘জিরো টলারেন্স’। এ ধরনের অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
