বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন, মামলা নিতে থানা পুলিশের গড়িমসি

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

মাছের সাথে শত্রুতা। জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুকুর মালিক সাতক্ষীরা সদর থানায় এজাহারের জন্য অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশ এখনো পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা না নিয়ে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি। ঘটনাটি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের।

থানায় দায়ের করা অভিযোগের নথিসুত্রে ও ছয়ঘরিয়া মাধবকাটি গ্রামের মৃত মান্দার সরদারের ছেলে আলম সরদার জানান, তার বাড়ির পাশে নিজস্ব পুকুরে দীর্ঘদিন মাছ চাষা করে আসছিল। হঠাৎ ১৫ ডিসেম্বর ভোর রাতে তার পুকুরে কে বারা কারা বিষ প্রয়োগ করে। এতে এক থেকে দেড় কেজি ওজনের রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারা যায়। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন তার প্রতিপক্ষ একই এলাকার গফ্ফার খোকনের পুত্র কামরুল ইসলাম, একই গ্রামের মৃত রাজ্জাকের পুত্র আনার আলী ও তার ছেলে মোঃ কবির জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তাদের পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেছেন। তিনি আরও বলেন, বিষ প্রয়োগের কারণ কামরুল ইসলাম, আনার আলীর কাছে জিজ্ঞাসা করলে তারা বিষ প্রয়োগের কথা স্বীকার করে বলেন, তোদের কাছে বসতভিটার জমি পাবো। যতদিন দখল না ছাড়বি ততদিন এমন ক্ষতি হবে মনে রাখিস। বেশি বাড়াবাড়ি করলে পুকুরের মাছের মত তোদেরকে মার্ডার করা হবে বলে প্রাণনাশের হুমকি দেয় সন্ত্রাসী কামরুল ও তার দলবল। এ ঘটনার পরপর তাদের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সদর থানায় অভিযোগ করলে থানা থেকে তদন্তে আসলেও মামলা গ্রহণ না করে গড়িমসি করছে। ঘটনার তিন দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ মামলা না নিয়ে কালক্ষেপণ করছেন। এ বিষয়ে পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।

ভূক্তভোগী আলম সরদারের ভাতিজা প্রভাষক মোঃ কামাল হোসেন ও তার ভাই সাংবাদিক মোঃ রানা হোসেন জানান, কামরুল এক জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ। ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে চাঁদাবাজি করে। পার্শ্ববর্তী বলাডাঙ্গা গ্রামের সমাজ সেবক মুকুল সরদার। তারা কোন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত না থাকলেও তার নিকট থেকে আকড়াখোলা বাজার থেকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা নেয় এই কামরুল। ঘটনাটি সবার মুখে মুখে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি শামিনুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তবে তাদেরকে বলা হয়েছে মামলা নয়, এ ঘটনায় একটি জিডি করতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights