বোতাম চাপলেই ইলেকট্রিক শক! ২ কোটি ডলারে ভয়ংকর গ্লাভস কিনছে মার্কিন পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ভার্সন

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বা অভিবাসন পুলিশের হাতে এবার উঠতে যাচ্ছে এক ভয়ংকর হাতিয়ার। অবাধ্য ও মারমুখী ব্যক্তিদের দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে যন্ত্রণাদায়ক বৈদ্যুতিক শক দিতে সক্ষম বিশেষ গ্লাভস বা দস্তানা ব্যবহার করতে পারেন তারা।

ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) সোমবারের এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী মার্চের মধ্যে প্রায় ২ কোটি ডলার খরচ করে হাজার হাজার ‘জি.এল.ও.ভি.ই’ (জেনারেটেড লো আউটপুট ভোল্টেজ এমিটার) কেনার পরিকল্পনা করেছে আইসিই। কেন্টাকির ‘কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস’-এর তৈরি এই গ্লাভসগুলো দেখতে সাধারণ হাতমোজার মতোই। কিন্তু লুকানো বোতাম চাপলেই এটি বৈদ্যুতিক মোডে চলে যায়। সরাসরি ত্বকে স্পর্শ করলে এটি তাৎক্ষণিক তীব্র যন্ত্রণার সৃষ্টি করে, যা মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে অপরাধীকে কাবু করে ফেলে।

গবেষক জন পিটার্স এই শকটিকে ‘মৌমাছির হুলের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার মতে, অপেক্ষাকৃত দুর্বল বা বয়স্ক কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ি বা বন্দিশালা থেকে অবাধ্য ব্যক্তিদের বের করে আনতে এটি দারুণ কার্যকর। প্রস্তুতকারক কোম্পানি জানিয়েছে, এটি ব্যবহারের জন্য কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে হবে। তবে শিশু, অন্তঃসত্ত্বা, বৃদ্ধ বা কেবল মৌখিকভাবে প্রতিবাদকারীদের ওপর এর প্রয়োগ সম্পূর্ণ নিষেধ। এ বিষয়ে ডিএইচএস বা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

তবে এমন উদ্যোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (এসিএলইউ) কর্মকর্তা জেন রলনিক বোরচেটা বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নে আইসিই এমনিতেই মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের জন্য সমালোচিত। এখন সামান্য বোতাম চেপেই তারা সাধারণ মানুষকে নিঃশব্দে বৈদ্যুতিক শক দিতে পারবে, যার পরিণতি হতে পারে অত্যন্ত ভয়াবহ। যদিও সমর্থকদের দাবি, রাস্তায় সাধারণ টহলের বদলে মূলত জেলখানা ও সহিংস বন্দিদের স্থানান্তরের মতো নির্দিষ্ট কাজেই এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights