ব্যবসায়িক মন্দায় ধস ডকইয়ার্ড শিল্পে
সামছুজ্জামান শাহীন, খুলনা
ব্যবসায়িক মন্দাসহ নানা কারণে খুলনায় নৌযান মেরামত শিল্পে (ডকইয়ার্ড) ধস নেমেছে। কাজ না থাকায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বেসরকারি ৪৪টি ডকইয়ার্ডের প্রায় দুই হাজার শ্রমিক-কর্মচারী। সেই সঙ্গে চোরের উপদ্রব, চাঁদাবাজি ও অব্যাহত লোডশেডিংয়ে ভোগান্তিতে আছেন ডকইয়ার্ড মালিকরা। নিকটতম সময়ে ডকইয়ার্ডে এমন হতাশাজনক চিত্র দেখা যায়নি বলে অভিমত শিল্প-সংশ্লিষ্টদের। এরই মধ্যে কাজ না থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী-শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে।
জানা যায়, খুলনার রূপসার জেমিনি সি ফুড থেকে আঠারবেকি নদীর দুই পাশে ও ৭ নম্বর ঘাট এলাকা পর্যন্ত ৪৪টি বেসরকারি নৌযান তৈরি ও মেরামতকারী কারখানা ডকইয়ার্ড রয়েছে। এখানে জাহাজ, লঞ্চ, কার্গো, সিট্রাক, বার্জ, স্টিমারসহ বিভিন্ন নৌযান নির্মাণ, মেরামত ও আধুনিকায়ন করা হয়। বর্তমানে মোংলা বন্দরে সার ও কয়লা আমদানি কমে যাওয়ায় নৌপথে পণ্য পরিবহন কমেছে। ব্যবসায়িক মন্দার কারণেও অনেকে এখন নৌযান ব্যবহার ও মেরামতে আগ্রহী হচ্ছেন না। ফলে ডকইয়ার্ডগুলোতে একপ্রকার শূন্যতা বিরাজ করছে।
খুলনা ডকইয়ার্ড মালিক সমিতি সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন জানান, খুলনার অধিকাংশ নৌযানের মালিক ছিলেন আওয়ামী লীগ ঘরানার ব্যবসায়ীরা। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাদের অনেকে পলাতক আছেন। তাদের নৌযানগুলো কাজে না লাগানোর কারণে মেরামতেরও প্রয়োজন হচ্ছে না।
নিজের প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গত মাসের বেতন দিতে না পারার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কাজ না থাকায় ডকইয়ার্ড মালিকরাও এ খাতে টিকে থাকতে পারছেন না। প্রতিদিন একজন শ্রমিককে ৭০০-১০০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। কাজ না থাকলে টাকা আসবে কোথা থেকে- এ প্রশ্ন তার।
এদিকে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই রূপসার রামনগর, রহিমনগর এলাকায় কয়েকটি ডকইয়ার্ডে রাতের বেলায় প্রায়ই ক্যাবল, লোহার প্লেট, অ্যাঙ্গেল চুরি ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। সেইসঙ্গে দিনের বেলায় ৩-৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না, ফলে ওই সময় ঝালাই বা রঙের কাজ করা যায় না।
অন্যদিকে সরকার অনুমোদিত মুনলাইট ডকইয়ার্ড, ফাতেমা ডকইয়ার্ড, রকি ডকইয়ার্ড, খুলনা ডকইয়ার্ড ও রূপসা ডকইয়ার্ডে সরকারি প্রতিষ্ঠানের কিছু নৌযান মেরামতের কাজ থাকায় সেখানে শ্রমিক-কর্মচারীরা কোনোমতে টিকে আছেন। বাকি ৩৯টি ডকইয়ার্ডের পরিস্থিতি ভয়াবহ। এ প্রসঙ্গে ডকইয়ার্ড মালিক সমিতির সভাপতি সালাউদ্দিন খান বলেন, ব্যবসায়িক মন্দায় পণ্য পরিবহন কমে যাওয়ায় নৌযানগুলো ভাড়া পাচ্ছে না। শ্রমিক-কর্মচারীর বেতন দিতে পারছেন না নৌযান মালিকরা। এ অবস্থায় নৌযান মেরামতেও তারা আগ্রহী না। তিনি আরও বলেন, ডকইয়ার্ডে স্থবিরতার কারণে মালিকদের অনেকে সংগঠনের মাসিক চাঁদা ৫০০ টাকাও দিতে পারছেন না। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরি ও ব্যবসায়িক পরিস্থিতির উন্নতি হলে ডকইয়ার্ডগুলোতে আবার চাঞ্চল্য ফিরবে।
