ব্যাটিং-বোলিং ঝালাই করবেন টাইগাররা
ক্রীড়া প্রতিবেদক
বাংলাদেশ প্রথম ও শেষবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেছে ২০০৩ সালে। ২৩ বছর আগের টেস্ট ম্যাচটি সুখকর ছিল না টাইগারদের। আড়াই দিনেই হেরেছিল ইনিংস ব্যবধানে। এরপর সময় গড়িয়েছে অনেক। আগের চেয়ে এখন অনেক পরিণত দল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ডের মতো ক্রিকেট পরাশক্তিগুলোর বিপক্ষে টেস্ট জিতেছে। যত দিন গড়াচ্ছে, শক্তিশালী দলে পরিণত হচ্ছেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এবার সাদা পোশাকে টেস্ট খেলবে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো করার টার্গেটে। ডারউইনের মারারা ওভাল স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্ট খেলবে ১৩ আগস্ট। তার আগে নাজমুল বাহিনী নিজেদের প্রস্তুত করে নেবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে। এই ম্যাচ খেলে ব্যাটিং, বোলিং বেশ ভালোভাবে ঝালিয়ে নেবেন টাইগাররা। প্রস্তুতি ম্যাচে নিজেদের ব্যাটিং, বোলিং প্রস্তুত করে নেওয়ার কথা বলেন ডানহাতি ফাস্ট বোলার হাসান মাহমুদ, ‘আমরা একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলব। সেই ম্যাচ খেলে ব্যাটিং ও বোলিংয়ে নিজেদের প্রস্তুত করে নেব। টেস্ট খেলতে নামার আগে যা আমাদের পুরোপুরি সহায়তা করবে। এই প্রস্তুতি ম্যাচটি এখানকার (অস্ট্রেলিয়া) কন্ডিশন ও উইকেট সম্পর্কে ধারণা দেবে।’ হাসান মাহমুদ কয়েকদিন আগে কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্টের পক্ষে খেলেছেন।
ডারউইন মারারা স্টেডিয়াম বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের কাছে অপরিচিত নয়। এখানে একটি টেস্ট ছাড়া চারটি ওয়ানডে খেলেছে এখানে। ২০০৩ সালে প্রথমবার ওয়ানডে এবং ২০০৮ সালে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলে। সুতরাং বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে একেবারেই পরিচিত ভেন্যু। কুইন্সল্যান্ডের চারটি আন্তর্জাতিক ভেন্যুর একটি ডারউইন। কুইন্সল্যান্ডের সবচেয়ে পরিচিত ভেন্যু ব্রিসবেন, যা গাব্বা নামে পরিচিত। ডারউইনে ২০০৪ সালে আরও একটি টেস্ট হয়েছে। এই মাঠের উইকেট এমনিতে বেশ শক্ত। বাউন্স বেশি হলেও খেলার উপযুক্ত। রোদ পড়লে পেসাররা সুইং ও মুভমেন্ট পেয়ে থাকেন। ডারউইনের উইকেটে সুবিধা পান স্পিনাররা। টাইগার স্কোয়াডে রয়েছে দুই অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও মেহেদি হাসান মিরাজ। তাইজুলের উইকেট ৬০ টেস্টে ২৭০ এবং মিরাজের উইকেট ৫৮ টেস্টে ২১৯টি। স্বাগতিক দলে রয়েছেন অফ স্পিনার নাথান লিওন। তার উইকেট ১৪১ টেস্টে ৫৬৭টি।
বাংলাদেশ দলের পেস বিভাগের মূল স্ট্রাইক নাহিদ রানা নেই। সাইড স্ট্রেইন ইনজুরির জন্য আট সপ্তাহ মাঠের বাইরে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় চিকিৎসা করাচ্ছেন। তার সঙ্গে চিকিৎসা করিয়েছেন তাসকিন আহমেদও। যদিও তিনি বর্তমানে দলের সঙ্গে ডারউইনে অবস্থান করছেন। আরেক বাঁ-হাতি পেসার শরিফুল ইসলাম দলের সঙ্গে নেই ইনজুরির জন্য। দেশে রিহ্যাব করছেন। খেলার মতো ফিট হলে তিনি উড়ে যাবেন অস্ট্রেলিয়া। দলে যোগ দেবেন ম্যাকেইতে টেস্ট খেলার জন্য। নাহিদ না থাকায় দলের সঙ্গে গিয়েছেন মুশফিক হাসান। এ ছাড়া রয়েছেন এবাদত হোসেন, খালেদ আহমেদ, তাসকিন ও হাসান মাহমুদ। বাঁ-হাতি পেসারের গতি, সুইং মিস করবে দল। তাসকিনের উইকেট ১৯ টেস্টে ৫৫টি। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি উইকেট। কাউন্টি খেলা হাসানের উইকেট ১৪ টেস্টে ৩৬টি। এবাদতের উইকেট ২৪ টেস্টে ৪৩ এবং খালেদের উইকেট ১৮ টেস্টে ৩৪টি।
পুরো দল গতকাল বেশ ফুরফুরে মেজাজে অনুশীলন করেছে। নাটকীয়ভাবে সুযোগ পেয়ে বেশ খোশমেজাজে অনুশীলন করেছেন। ইনজুরির জন্য ডারউইন টেস্ট খেলার কথা ছিল না লিটনের। ১২ আগস্ট তাকে ফিটনেস টেস্ট দিতে হত। সেই টেস্টে পাস করলে তাকে পাঠানো হতো অস্ট্রেলিয়ায়। কিন্তু তার আগেই খেলার মতো ফিট হওয়ায় তাকে অস্ট্রেলিয়া পাঠানো হয়। অন্যরা দারুণ উপভোগ করেছেন অনুশীলন। অনুশীলন ভালো হচ্ছে বলেন হাসান, ‘আমরা আজ (গতকাল) ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং অনুশীলন করেছি। বেশ ভালো লেগেছে অনুশীলন। এবার প্রস্তুতি ম্যাচ খেলব। এরপর আরও সুযোগ পাব অনুশীলনের।’
