দরজা খুলবে নদী তীরবর্তী সড়কের

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

কর্ণফুলী নদী ও পাশের সড়কের মিশেলে তৈরি হচ্ছে এক অপরূপ দৃশ্য। যাত্রীরা অবলোকন করবে নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এমন দৃশ্য তৈরি হবে কর্ণফুলী নদীর শাহ আমানত সেতুর উত্তর পাড় থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত সড়কে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ। আগামী ডিসেম্বরে সড়কটি যান চলাচলের জন্য দ্বার খুলে দেওয়া হবে। এটি চালু হলে নগরীর কর্ণফুলী সেতুর মোড় থেকে কালুরঘাট যেতে সময় লাগবে মাত্র ১০ মিনিট।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ‘কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর আওতায় ৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সড়ক নির্মাণ করা হবে। জানা যায়, নগরীর শাহ আমানত সেতু থেকে কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত কর্ণফুলী নদীর শহরাংশের তীরঘেঁষে চার লেনের সড়কসহ বাঁধ নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ। তা ছাড়া ইতোমধ্যে চাক্তাই, রাজাখালী, বলিরহাট, সাব খাল-২ ও ইস্পাহানি খাল, কল্পলোক এলাকা হয়ে কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত চার লেনের সড়ক নির্মাণ কাজও প্রায় শেষ। সংযোগ দেওয়ার কাজ চলছে শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়কের সঙ্গে।

দরজা খুলবে নদী তীরবর্তী সড়কের সড়ক ও বাঁধের কালুরঘাট অংশে কিছু কাজ বাকি আছে। প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী রাজীব দাশ বলেন, চার লেনের সড়কের কাজ প্রায় শেষ। এখন চলছে শেষ পর্যায়ের কাজগুলো। তা ছাড়া একটি ছোট স্লুইচগেট ছাড়া অন্য সব রেগুলেটর ও পাম্প চালু আছে। তাই আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আউটার রিং রোড যান চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি বলেন, সড়কটি পুরোদমে চালু হলে এর বহুমাত্রিক সফল পাওয়া যাবে। নগরের জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ, নদীতীর সংরক্ষণ, নগর যোগাযোগ, আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পর্যটন বিকাশ খাতে বিকশিত হবে।

নদীতীরের ওয়াকওয়ে ও উন্মুক্ত বিনোদন অবকাঠামো নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি চট্টগ্রামের পর্যটনশিল্পেও নতুন মাত্রা যোগ করবে। একই সঙ্গে নগরীর দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। ফলে এরই মধ্যে কর্ণফুলী নদীর তীর ঘিরে নগর জীবনে নতুন স্বপ্ন দেখা দিয়েছে।

সিডিএ সূত্রে জানা যায়, ‘কালুরঘাট-চাক্তাই সড়ক ও বাঁধ নির্মাণ’ শীর্ষক ২ হাজার ৩১০ কোটি টাকার প্রকল্পটি ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল একনেকে অনুমোদন পায়। ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে নির্মাণকাজ শুরু হয়। তিন দফা সময় বৃদ্ধি করে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা। শুরু থেকেই জমি অধিগ্রহণে নানা জটিলতা, মামলা মোকদ্দমা, অর্থ বরাদ্দসহ নানা সংকটের কারণে পুরোদমে নির্মাণকাজ করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্পের অধীন প্রায় দেড় শ কোটি টাকা ব্যয়ে সাড়ে ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে।

অন্যদিকে নেদারল্যান্ডস থেকে আনা আধুনিক গেট ও পাম্প স্থাপনের ফলে বর্ষাকালে জোয়ারের সময় নদীর পানি সহজে নগরীতে প্রবেশ করতে পারে না। প্রয়োজন অনুযায়ী গেট বন্ধ রেখে পাম্পের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন করা হয়। আবার ভাটার সময় গেট খুলে দিয়ে স্বাভাবিকভাবে পানি বের করে দেওয়া হয়। গত বর্ষায় চালু হওয়া ১১টি স্লুইচগেট নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights