ভয়াবহ পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দিল ইরান
অনলাইন ডেস্ক
ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে কোনো ধরনের হামলা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশন গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সোমবার এক বিবৃতিতে ইরানের এই এলিট বাহিনী সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তেহরান কোনো বেসামরিক স্থাপনায় হামলার পক্ষপাতী নয়, তবে মার্কিন আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে ইরান আর চুপ করে বসে থাকবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির কড়া জবাব দিয়ে আইআরজিসি বলেছে, হরমুজ প্রণালী শুধু শত্রুভাবাপন্ন শক্তির জন্য নিয়ন্ত্রিত রাখা হয়েছে, সাধারণ নৌ-চলাচলের জন্য এটি উন্মুক্ত।
বিবৃতিতে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ওঠা বেসামরিক পানি শোধনাগার ধ্বংসের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। উল্টো ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আইআরজিসি জানিয়েছে, মার্কিন মদদপুষ্ট হামলায় ইতোমধ্যেই কেশম দ্বীপের ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ১৮০ জন শিশুর প্রাণহানির তথ্য উল্লেখ করে আইআরজিসি দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রই মূলত এই যুদ্ধের উসকানিদাতা। ইরান এতদিন হাসপাতাল বা স্কুলে হামলার মুখেও ধৈর্য দেখালেও বিদ্যুৎ খাতের ওপর কোনো আঘাত এলে তা আর সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, যদি ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়, তবে এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কেন্দ্র এবং মার্কিন অংশীদারিত্ব থাকা সকল শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামোতে সরাসরি হামলা চালানো হবে। খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাগারি বলেছেন, ট্রাম্পের আল্টিমেটাম বিশ্ব নিরাপত্তাকে অস্থিতিশীল করার একটি অপপ্রয়াস মাত্র। ইরানের সক্ষমতা সম্পর্কে ওয়াশিংটনের সঠিক ধারণা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনে যুদ্ধক্ষেত্রেই তেহরান তার শক্তির প্রমাণ দেবে।
সূত্র: আল মায়াদিন
