ভরা মৌসুমেও ধরা পড়ছে না ইলিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
ভাদ্রের ভরা মৌসুমে অভ্যন্তরীণ নদীতে ইলিশ মাছের দেখা মিলছে না। যা মেলে তা-ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। সপ্তাহের ব্যবধানে বরিশালে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বেড়েছে। বরিশাল মহানগরের ইলিশ মোকাম পোর্ট রোড বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ী মাছ নিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় রয়েছেন। ক্রেতা সরকারি চাকরিজীবী জাহিদুল ইসলাম দাম জিজ্ঞেস করেই আঁতকে ওঠেন। তিনি বলেন, ‘ইলিশ আর আমরা কিনতে পারব না। তার চেয়ে অন্য মাছ কিনব।’ খুচরা বিক্রেতা মো. জসিমউদ্দিন বলেন, ‘বাজারে তেমন মাছ ওঠে না। যা ওঠে, দাম অনেক বেশি। দুই দিন কোনো মাছ কিনি নাই। যে দাম চায়, ওই দাম দিয়ে মাছ কিনে বেচতে পারমু না। মাছ বিক্রি না করলে তো সংসার চলবে না। তাই কয়েকটি মাছ বিক্রির জন্য কিনছি। কিন্তু ক্রেতা দাম শুনে চলে যায়।’ জসিমের কাছে থাকা কেজি সাইজের মাছের একদর ২ হাজার ৮০০ টাকা। অন্য বিক্রেতারাও জানালেন, তাঁরাও একই দামে বিক্রি করেন। বিক্রেতা মাসুম মৃধা বলেন, ‘বাজারে এখন কেজি সাইজের ওপর মাছ নেই। এক সপ্তাহ আগে কেজি সাইজের ইলিশ ২ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। আজ (শনিবার) পাইকারিতেই ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে কিনছি। মোগো তো ১০০ টাকা লাভ করা লাগবে। এ ছাড়া ৮০০-৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ২ হাজার ৫০০ টাকা, ৫০০ গ্রামের প্রতি কেজি ২ হাজার টাকা, ৩০০ গ্রামের প্রতি কেজি ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।’ মেঘনা নদীর জেলে হিজলা উপজেলার মান্দ্র চর কুশরিয়ার নাগর খান বলেন, ‘সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নদীতে ছিলাম। ছোট সাইজের চারটি মাছ পেয়েছি। এতে ইঞ্জিনচালিত নৌকার তেলের খরচই ওঠে না। ঘাটের সিংহভাগ জেলের অবস্থা একই। একেকটি নৌকায় ৪-৫টি মাছের বেশি ওঠেনি। কারও নৌকায় বড় মাছ দেখিনি। কেন নদীতে মাছ নেই, তা-ও বলতে পারি না।’ এ অবস্থা চলতে থাকলে সমস্যায় পড়তে হবে বলে জানান তিনি।
