ভিক্ষার থালা হাতে রাস্তায় নামলেন ধনকুবের, তারপর যা দেখলেন
অনলাইন ডেস্ক
ভারতের অন্যতম ধনী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যার অঢেল সম্পদ আর প্রভাব-প্রতিপত্তি দেখে অভ্যস্ত সাধারণ মানুষ, তাকেই হঠাৎ দেখা গেল মুম্বাইয়ের ধুলোবালি মাখা ফুটপাতে নিঃস্ব ভিক্ষুকের বেশে। তিনি আর কেউ নন, মহারাষ্ট্র বিধানসভার ভারতীয় জনতা পার্টির বিধায়ক এবং আবাসন ব্যবসায়ী পরাগ শাহ। ৩ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকারও বেশি সম্পদের মালিক এই ধনকুবের একদিনের জন্য নিজের সমস্ত নিরাপত্তা, বিলাসবহুল গাড়ি আর আভিজাত্যের খোলস একপাশে সরিয়ে রেখে সামাজিক পরীক্ষায় নেমেছিলেন।
মুম্বাইয়ের ব্যস্ত ঘাটকোপার এলাকায় ফুটপাতে বসে থাকা, পথচারীদের কাছে বিনীতভাবে হাত পাতা কিংবা একটু খাবারের জন্য কাকুতি-মিনতি করা এই মানুষটিকে কেউ দূর থেকেও চিনতে পারেনি। চেহারা আড়াল করতে মেকআপের সূক্ষ্ম কারসাজি আর মলিন পোশাকের আড়ালে তিনি ঢেকে রেখেছিলেন নিজের ধনকুবের পরিচয়। উদ্দেশ্য কোনো রাজনীতি বা প্রচার ছিল না, বরং জৈন ধর্মীয় উৎসব পর্যুষণ পর্ব উপলক্ষে আধ্যাত্মিক গুরু নম্রমুনির পরামর্শে অহংকার বিসর্জন ও আত্মশুদ্ধির এই কঠিন পথ বেছে নিয়েছিলেন তিনি। সাধারণ মানুষের প্রকৃত প্রতিক্রিয়া দেখা এবং বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়ানোই ছিল তার এই ছদ্মবেশের প্রধান উদ্দেশ্য।
দিনভর ছদ্মবেশে থাকার পর তিনি মুখোমুখি হন চরম কিছু মানবিক অভিজ্ঞতার। ধনসম্পদ ও ক্ষমতার প্রভাব যখন শূন্যে নেমে আসে, তখন সমাজ একজন মানুষকে কীভাবে দেখে, তা নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করেন এই বিধায়ক। তবে তিক্ততার চেয়ে ভালোবাসার রূপটাই তিনি বেশি দেখেছেন মুম্বাইয়ের পথঘাটে। এক নিঃস্ব খাবারের দোকানদার কোনো টাকা না নিয়েই তাকে একটি সিঙাড়া খেতে দেন। আরেক অচেনা পথচারী পরম মমতায় তার হাতে তুলে দেন ২০টি টাকা এবং তা দিয়ে খাবার কিনে খাওয়ার আকুল অনুরোধ জানান। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের এই নিঃস্বার্থ মানবিকতা তার হৃদয় গভীরভাবে স্পর্শ করে।
পরীক্ষা শেষে ছদ্মবেশ ও মেকআপ খুলে পরাগ শাহ পুনরায় সাধারণ রূপে আবার ফিরে যান সেই সমস্ত স্থানে, যেখানে কিছুক্ষণ আগেও তিনি ভিক্ষুকের বেশে ঘুরে বেরিয়েছেন। যে মানুষগুলো এক মুহূর্ত আগে তাকে নিছক এক নিঃস্ব পথিক মনে করে সাহায্য করেছিল, তারাই নিজেদের সামনে মহারাষ্ট্রের সবচেয়ে ধনী বিধায়ককে সশরীরে দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান। পরাগ শাহ পরবর্তীতে জানান, প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাকে সম্মান জানাতে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়, ছদ্মবেশ পরামাত্রই তারা তার চেয়ে অনেক উঁচুতে অবস্থান নেয়; এটাই জীবনের পরম বাস্তবতা।
সূত্র: গালফ নিউজ
