ভূমিকম্পের প্রচলিত ধারণা পাল্টে দিচ্ছে যে গবেষণা, দাবি রিপোর্টে

অনলাইন ডেস্ক

এবার ভূমিকম্পের সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে প্রচলিত থাকা ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো নতুন তথ্য পাওয়া গেছে এক গবেষণায়। ‘ইউনিভার্সিটি অব ব্রাউন’-এর বিজ্ঞানীরা এই গবেষণাটি করেছেন।

এই বিজ্ঞানীরা সামনে এনেছেন নতুন তত্ত্ব। এতোদিন ভূমিকম্পের প্রাথমিক কারণ হিসেবে বলা হচ্ছিল ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন ‘ফল্ট লাইনের ঘর্ষণ’। তবে নতুন তত্ত্বটি সেই কারণকেই চ্যালেঞ্জ করছে।

‘ফল্ট লাইন’ এমন একটি সীমানা যেখানে পৃথিবীর টেকটোনিক প্লেটগুলো একে অপরের সঙ্গে মিলে যায় বা একে অপরের থেকে দূরে সরে যায়। বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘নেচার’-এ প্রকাশি এই গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন ফল্ট লাইন সারিবদ্ধ হয়ে থাকার বিষয়টি সম্ভবত ভূমিকম্পের কার্যকলাপে প্রভাব ফেলে।
‘ইউনিভার্সিটি অব ব্রাউন’-এর ভূ-পদার্থবিদ ও এ গবেষণার অন্যতম প্রধান লেখক ভিক্টর সাই বলেছেন, এ আবিষ্কারটি ভূমিকম্পের আচরণ বোঝার প্রচলিত ধারণাকে আরও উন্নত করতে পারে। তার মতে, ‘দীর্ঘদিন ধরে ভূ-পদার্থবিদদের দাবি ছিল, ভূমিকম্প তখনই ঘটে যখন ভূত্বকের ফল্টের চাপ এমন পর্যায়ে চলে যায় যেখানে বিভিন্ন ফল্ট দ্রুত পিছলে যায়। এটি ‘স্টিক-স্লিপ’ নামের এক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চাপ ছেড়ে দেয়।’

এই গবেষকের দাবি, তাদের নতুন গবেষণায় একটি ভিন্ন ইঙ্গিত মিলেছে। এ তত্ত্ব অনুসারে, আগে যেমনটা ভাবা হয়েছিল, ফল্টের ক্ষেত্র সম্ভবত তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞানীদের প্রচলিত বিশ্বাস ছিল, ফল্টে থাকা ঘর্ষণের ধরন নির্ধারণ করে থাকে মাটি মসৃণভাবে পিছলে যাবে বা হঠাৎ করেই ভেঙে পড়ে ভূমিকম্প ঘটাবে কি না। এতদিন ধারণা করা হত, মাটির দ্রুত পিছলে যাওয়া বা এর তীব্র গতির কারণ মূলত ফল্ট লাইনের অস্থিতিশীল ঘর্ষণ। এর বিপরীতে, স্থিতিশীল ঘর্ষণের বেলায় মাটির নড়াচড়া খুবই ধীর ও সামান্য হয়ে থাকে।

সাই ও তার গবেষণা দলটি খুঁজে পেয়েছেন, ভূমিকম্প সংশ্লিষ্ট ফল্টের জ্যামিতিক জটিলতা, যেমন বাঁক, ফাঁক ও শিলার গতিবিধি সম্ভবত এক্ষেত্রে বেশি প্রাসঙ্গিক।

এ গবেষণার বিভিন্ন ফলাফল ব্যাখ্যা করতে, গবেষকরা ফল্ট লাইনকে তুলনা করেছেন দাঁতে দাঁত চেপে ধরে রাখার সঙ্গে। যখন দাঁত কম ধারালো হয়, তখন পাথরগুলো একে অপরের ওপর দিয়ে মসৃণভাবে পিছলে যায়, যার ফলে এরা ধীরে চলে। তবে, দাঁত যতো বেশি ধারালোভাবে আঁকড়ে থাকে, তখন এইসব ফল্ট একে অপরকে আরও চাপ দিয়ে ধরে রাখে। আর চাপ মুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত সে চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে, যার ফলে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights