ভেড়ামারায় ‘মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেওয়া’ তরুণীর মৃত্যু, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
অনলাইন ভার্সন

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেওয়ার চার দিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফারহানা ইয়াসমিন তমা নামের এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। তমাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। তবে হাসপাতালের প্রাথমিক নথিপত্রে কেবল মাথায় গুরুতর আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তমার বাড়ি ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগর গ্রামে। বাবার নাম তোজাম্মেল হক। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে তমা মারা যান। পরে দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) মর্গে তমার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর তাকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় মোটরসাইকেল থেকে ফেলে যাওয়া হয়। স্বজনদের দাবি, ফেলে দেওয়ার আগে তাকে সংঘবদ্ধ নির্যাতন করা হয়েছে।

তমার ভাই মো. তামিম জানান, একই এলাকার আবু বক্কর আলী নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তমার বিয়ে হয়েছিল। চারমাস আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাসেল নামের এক যুবক গোলাপনগর গ্রাম থেকে তমাকে মোটরসাইকেলে জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে যায়। পরে রাত ৮টার দিকে বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে বকশীপাড়া গ্রামে অচেতন অবস্থায় তমাকে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। এতে তমা মাথায় গুরুতর আঘাত পান। খবর পেয়ে তারা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তমা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অনেকটা সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ছিলেন।

তামিম আরো জানান, তমাকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাওয়া রাসেল তমার সাবেক স্বামী আবু বক্কর আলীর বন্ধু। তিনি তার বোনের মোবাইল ফোন দেখেছেন, ঘটনার দিন বিকালে মোট ৯ বার ফোন করেছিলেন রাসেল। ঘটনার পর থেকে রাসেল পলাতক।

তামিম অভিযোগ করেন, অন্তত চারজন ব্যক্তি তমার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে। তবে হাসপাতালে শুধু মাথায় আঘাতের চিকিৎসা হয়েছে। সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বিষয়টি জানিয়ে হাসপাতালে তারা এই পরীক্ষা করার অনুরোধও জানিয়েছিলেন।

নিহত তমার মামাতো ভাই যুবদল নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, তমা অত্যন্ত ভালো মেয়ে। ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর গোলাপনগর বাজার থেকে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে ভেড়ামারা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

তবে ওয়ার্ডের দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা বলেছিলেন, এই ওয়ার্ডে ধর্ষণের পরীক্ষা করার উপায় নেই। ওয়ার্ড বদলে তাকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নিতে হবে। সেখানে পরীক্ষা হবে। তবে সেখানে নেওয়ার আগেই তমার মৃত্যু হয়েছে।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ জানান, বিষয়টি তিনি এখনো জানেন না। খোঁজ নিয়ে পরে জানাতে পারবেন। ময়নাতদন্তে প্রাথমিকভাবে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে রামেকের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. কফিল উদ্দিনকে ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন, তমার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তারা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বিষয়টি বলছেন। কিন্তু পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারেনি। প্রয়োজনীয় তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ওসি জানান, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তমার সাবেক স্বামী আবু বক্কর আলীকে আটক করা হয়েছে। তিনি থানা হেফাজতে আছেন। তবে এ ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার ব্যাপারে তিনি কোনো স্বীকারোক্তি দেননি। এ নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে যেভাবে মামলা করা হলে, তা গ্রহণ কর হবে বলেও জানান ওসি জাহিদুর রহমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights