ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা নিয়ে অ্যামনেস্টির ‘কঠোর’ বার্তা
অনলাইন ডেস্ক
ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
গতকাল মঙ্গলবার হামলার প্রায় একমাস পর এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানায় সংস্থাটি।
একই সঙ্গে সংস্থাটি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোর আমলে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা বলেছে, সেই সময়ের অপরাধের বিচার এখনও হয়নি। তেমন অপরাধ যে হবে না, তেমন কোনো নিশ্চয়তাও নেই।
মহাসচিব অ্যাগনেস কালামার্দ বলেন, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এটি স্পষ্টত আগ্রাসনের শামিল। এ কর্মকাণ্ড বেসামরিক মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক আইনের সুরক্ষাব্যবস্থাকে ভেঙে দিচ্ছে। এটি অন্য দেশগুলোকেও বেআইনি পদক্ষেপে উৎসাহিত করতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রকে একই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের পথ খুলে দিতে পারে।
মহাসচিব আরও বলেন, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা, রাষ্ট্রীয় দমনযন্ত্রের অব্যাহত কার্যক্রম এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তে থাকা হস্তক্ষেপের মধ্যে ভেনেজুয়েলার জনগণ মানবাধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের অভাব এবং আরও ক্ষতির আশঙ্কার মুখে রয়েছে।
মহাসচিবের মতে, ভেনেজুয়েলার ভেতরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা চলছে। এর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সাধারণ মানুষ মানবাধিকার রক্ষায় কোনো স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান পাচ্ছে না। বরং, সামনে তাদের নিরাপত্তা ও অধিকার আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
অ্যামনেস্টি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বেআইনি শক্তি প্রয়োগ এবং ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের মানবতাবিরোধী অপরাধ, উভয়কেই তারা দ্বিধাহীনভাবে নিন্দা জানায়।
অ্যাগনেস কালামার্দ ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত সরকারের প্রতিও অভিযোগ করেছেন। তার মন্তব্য, ‘কিছু বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে বিচার করার বা ভবিষ্যতে এমন অপরাধ আবার হবে না, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’
গত তিন জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিয়ে যায় ট্রাম্প প্রশাসন। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন, ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদ এবং আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের জন্যই এই হামলার অন্যতম কারণ।
সূত্র: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
