মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহে কয়েক মাস লেগে যেতে পারে

অনলাইন ডেস্ক

যুদ্ধবিরতি অব্যাহত থাকলেও এবং শান্তি চুক্তি হলেও মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কয়েক মাস থেকে লেগে যাতে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইরানে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজার চাঙ্গা হয়ে ওঠে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যাপকভাবে কমে আসে। কিন্তু এর ফলে মানুষের আর্থিক অবস্থার কতটা উন্নতি হবে, তা নিয়ে শঙ্কিত বিশেষজ্ঞরা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এবং সার বহনকারী জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। অন্যদিকে উপসাগরের স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় উৎপাদনও থেমে গেছে।

উড ম্যাকেঞ্জির মতে, ,মধ্যপ্রাচ্যে এই অঞ্চল জুড়ে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এই উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হওয়ার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরুদ্ধারের উপর নির্ভরশীল।

উড ম্যাকেঞ্জির রিফাইনিং, কেমিক্যালস এবং অয়েল মার্কেটস-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যালান গেল্ডার বলেন, পরিবহনের একটি ‘কার্যকর ব্যবস্থা’ এবং জাহাজ মালিকদের আস্থা অপরিহার্য।

গেল্ডারের মতে, পরিবহন পুনরায় শুরু করার জন্য প্রণোদনা থাকা সত্ত্বেও ট্যাংকার চলাচল অনিশ্চিয়তা রয়ে গেছে, অন্যদিকে সংঘাত পুনরায় শুরু হলে আটকা পড়া এড়াতে জাহাজগুলো প্রবেশে বিলম্ব করতে পারে এবং বন্দরের সীমাবদ্ধতার কারণে উপকূলীয় মজুত দ্রুত বোঝাই করা যাচ্ছে না।

তিনি উল্লেখ করেন, উৎপাদন বৃদ্ধিই সীমাবদ্ধকারী কারণ হয়ে ওঠার আগে পর্যন্ত বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত কারিগরী বিষয়টি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে।

উড ম্যাকেঞ্জি জানিয়েছে, মজুত ক্ষমতার ব্যাপক তারতম্য রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে প্রায় এক মাস থেকে শুরু করে ইরাক ও কুয়েতে দুই সপ্তাহেরও কম সময় পর্যন্ত এটি চলবে। অন্যদিকে, সরবরাহ ব্যবস্থা সহজ হওয়ার আগেই যুদ্ধ-পূর্ববর্তী উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশি ফিরে আসতে পারে এবং সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধারের সময়সীমা দেশভেদে ভিন্ন হবে।

উড ম্যাকেঞ্জির আপস্ট্রিম অ্যানালাইসিসের প্রধান ফ্রেজার ম্যাককে বলেছেন, এমনকি স্থিতিশীল পরিস্থিতিতেও জলাধার এবং পরিচালনগত সীমাবদ্ধতার কারণে ইরাকের আগের উৎপাদন স্তরে ফিরতে ছয় থেকে নয় মাস সময় লাগতে পারে।

উৎপাদন ত্বরান্বিত করতে গেলে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। ম্যাককে বলেন, অপারেটররা যদি খুব দ্রুত উৎপাদন পুনরুদ্ধার করে, তবে তারা আরও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির ঝুঁকি নেবে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোলের মতে, এই সংঘাত নয়টি দেশের ৪০টিরও বেশি জ্বালানি সম্পদের ক্ষতি করেছে, যা দীর্ঘস্থায়ী সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে।

রাইস ইউনিভার্সিটির বেকার ইনস্টিটিউটের ফেলো জিম ক্রেন বলেন, আপনি চাইলেই পজ বাটন চাপতে পারবেন না। কাতার এনার্জির প্রধান নির্বাহী সাদ শেরিদা আল-কাআবির মতে, কাতারের রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সের কিছু অংশের ক্ষতি মেরামত করতে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

ওকলাহোমা-ভিত্তিক তেল শিল্পের অভিজ্ঞ ম্যাট র‍্যান্ডলফ বলেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে তেল বন্ধ থাকলে ক্ষয়, মোম জমা এবং চাপের ভারসাম্যহীনতার ঝুঁকি থাকে, যা পুনরায় চালু করাকে জটিল করে তোলে। রাইস্ট্যাড এনার্জির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার গবেষণা পরিচালক আদিত্য সারস্বত বলেন, অগ্রাধিকার হলো ক্ষেত্রগুলো চালু রাখা।

উড ম্যাকেঞ্জির বিশ্লেষকদের মতে, ট্যাংকার ফিরতে শুরু করলেও, মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি প্রবাহ পুনরায় চালু হওয়া এখনও জাহাজ চলাচল পুনরুদ্ধার, মজুত খালি করা এবং ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়ানোর মতো একাধিক ধাপের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সূত্র: গাল্ফ নিউজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights