মহাত্মা গান্ধীর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নিরসনের উদ্যোগে সমাজে সুন্দর কালচার তৈরি হয়েছে: এ্যানি

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

বৃহত্তর নোয়াখালীতে গ্রামে গ্রামে ঘুরে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নিরসনে মহাত্মা গান্ধীর উদ্যোগের ফলে সমাজে সুন্দর কালচার তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মিলনায়তনে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘১৯৪৬ সালে মহাত্মা গান্ধী বৃহত্তর নোয়াখালীর নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরে গিয়েছিলেন। তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বৃহত্তর নোয়াখালীর বর্তমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও অসাম্প্রদায়িক অবস্থান তৈরিতে তাঁর সেই উদ্যোগের ভূমিকা রয়েছে। বিগত দিনগুলোতে সারা দেশে অনেক কিছু ঘটলেও নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনীতে এ ধরনের পরিস্থিতি বা উত্তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা খুব একটা সহজ নয়। সেই উদ্যোগ থেকেই আমাদের সমাজে সুন্দর কালচার তৈরি হয়েছে।’

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘদিন দেশে নির্বাচন ছিল না। নির্বাচন হওয়ার পরও সব ষড়যন্ত্র শেষ হয়ে গেছে, তা বলার সুযোগ নেই। একেকজন একেক জায়গা থেকে ভিন্ন ভিন্ন চিন্তাভাবনা করতে পারেন, করছেনও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ রাখলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট বোঝা যায়। দেশের বাইরে এবং দেশের ভেতরে বসেও এ ধরনের ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনোভাবেই যেন এসব ষড়যন্ত্র আমাদের সম্প্রীতি ও শান্তি নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা প্রস্তুত আছি, সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে এবং দায়িত্ব নিতে হবে। আপনাদের পাশে আমরা বরাবরই ছিলাম।’

দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রাতের বেলা বিশেষ পাহারার ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিকভাবে দলীয় অবস্থান থেকে আমরা পাহারার ব্যবস্থা রাখবোই। সজাগ থাকবো, সতর্ক থাকবো। প্রশাসনিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্তরা টহলে থাকবেন। প্রত্যেকটি পূজা মন্ডপে আনসার থাকবেন। সিসি ক্যামেরা যেখানে নেই, সেখানে দ্রুত যেন দিয়ে যাওয়া ইউএনও সাহেবরা চেষ্টা করবেন।’

লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, লক্ষ্মীপুর পৌর প্রশাসক সম্রাট খীসা, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, বাফুফের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এআর হাফিজ উল্যাহ, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শঙ্কর মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক মিলন মন্ডল, জেলা উদযাপন পরিষদের সভাপতি স্বপন চন্দ্র নাথসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights