মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, দুশ্চিন্তায় কুতুবদিয়ার জেলেরা

কুতুবদিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
বঙ্গোপসাগরে সোমবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে ৫৮ দিনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, যা বলবৎ থাকবে ১১ জুন পর্যন্ত। মাছ ধরা বন্ধ
বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কুতুবদিয়ার জেলেরা।

জেলে পল্লীতে দেখা যায়, ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ইতোমধ্যে নৌকাসহ মাছ ধরার সরঞ্জামাদি নিয়ে উপকূলে ফিরেছেন জেলেরা। জেলেদের নৌকা নদীর তীরে সারিতে বাঁধা অবস্থায় রয়েছে।

জেলেরা জানান, একদিকে নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরা বন্ধ, অন্যদিকে সংসারের ব্যয়ভার বহনের জন্য মহাজনের কাছ থেকে এবং এনজিওর থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি শোধ নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলে পরিবারগুলো। নিষেধাজ্ঞার সময়টা অভাব অনটনে পার করতে হবে বলে দাবি করেছেন জেলেরা।

বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় এ নিষেধাজ্ঞা আগে শুরু হতো ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত। ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময় এবার সাত দিন কমানো হয়েছে। সেই সঙ্গে তা ভারতের সঙ্গে সামঞ্জস্য করা হয়েছে। ভারতের সঙ্গে মিল রেখে প্রথমবারের মতো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় জেলেরা খুশি হলেও সরকারি সহয়তা না পাওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কুতুবদিয়ার ৬টি ইউনিয়নের ছোট-বড় প্রায় ৬০০টি শুঁটকি মহল রয়েছে। এতে ১০ হাজার শ্রমিক প্রতিদিন কাজ করে। তাদের জন্য সরকারিভাবে কোন সহযোগিতা নেই। এছাড়াও দ্বীপে প্রায় এক হাজার ৫০০টি মাছ ধরার ছোট-বড় নৌকা রয়েছে। এতে প্রায় ৩৫ হাজার জেলে নিয়মিত সাগরে মাছ শিকারে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে। এরমধ্যে মাত্র ১০ হাজার ৯৫৯ জন সরকারি সহায়তা পেয়ে থাকলেও আরো প্রায় ৩৪ হাজারো বেশি জেলে এ সহয়তা পায় না। আর সাগরে ৪৭৫ প্রজাতির মাছ ছিল। এখন রয়েছে ৩০০ প্রজাতির মাছ। আরও ১৭৫ প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত বা স্থান পরিবর্তন করেছে।

উপজেলার আলী আকবর, ডেইল ইউনিয়নের গিয়াস উদ্দিন, হোছাইনসহ অনেকেই বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, প্রকৃত জেলে হয়েও তারা সরকারি কোনো সহায়তা পান না। সরকারের দেয়া এ অবরোধের সময়ে একদিকে ঋণের বোঝা, অপরদিকে সংসারের খরচ মেটাতে চিন্তিত তারা। উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের শাহজাহান, আব্দুল মালেক, সাবেরসহ অনেকেই জানান, জেলেদের দ্বৈতপেশা না থাকায় বেশি করে সরকারি সহায়তা দেয়া উচিত। যারা পায় তাদেরকেও সঠিক সময়ে দেয়া হয় না। এছাড়াও সকল ঋণদাতা এনজিও বা সমিতিকে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা সময়ে কিস্তি বন্ধ রাখার দাবি জানান জেলেরা।

উপজেলা মেরিন ফিশারিজ কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, কুতুবদিয়ায় নিবন্ধিত ১০ হাজার ৯৫৯ জন জেলেকে সরকারি সহায়তা দেয়া হবে। এতে অনিবন্ধিত জেলেরা এ সহায়তা পাবে না।

তিনি আরও জানান, সাগরে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা সময়ে ঋণদাতা এনজিও বা সমিতির সপ্তাহিক কিস্তি সংগ্রহ বন্ধ রাখার জন্য মৎস্য অধিদফতর এরকম কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights