মাঝরাতে সন্তানদের চিৎকার, ঘরের মেঝেতে মিলল গার্মেন্টস শ্রমিকের রক্তাক্ত মরদেহ

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের শ্রীপুরে গভীর রাতে দুই সন্তানের চিৎকারে একটি বসতঘরে এক নারী গার্মেন্টস শ্রমিককে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছেন প্রতিবেশীরা। তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে স্বজনরা তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রবিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা গ্রামের গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি এলাকায় মজনু মিয়ার ভাড়া বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

নিহত নাছিমা আক্তার স্বামী-সন্তানসহ ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন এবং স্থানীয় ওয়ানটেক্স লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। তিনি নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার কৈলশাপুর বনপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে। প্রায় ১২ বছর আগে ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার গিদাপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাইদুর রহমানের (৪২) সঙ্গে তার বিয়ে হয়। প্রায় এক মাস ধরে সাইদুর স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে ওই বাসায় থেকে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন।

নিহতের স্বজন ও পাশের কক্ষের ভাড়াটিয়া নার্গিস আক্তার জানান, দাম্পত্য কলহ প্রায়ই লেগে থাকত। সামান্য বিষয় নিয়েও সাইদুর স্ত্রী নাছিমাকে নির্যাতন করতেন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে কয়েক মাস আগে নাছিমা দুই সন্তানকে নিয়ে শ্রীপুরে এসে বাসা ভাড়া নেন এবং গার্মেন্টসে চাকরি শুরু করেন। কয়েকদিন আগে সাইদুরও সেখানে এসে স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন।

তিনি আরও জানান, রবিবার রাতে খাবার খেয়ে নাছিমা, তার স্বামী ও দুই সন্তান ঘুমিয়ে পড়েন। রাত দেড়টা থেকে দুইটার মধ্যে শিশুদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে গিয়ে দেখেন, ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন নাছিমা। পাশে দুই সন্তান কান্নাকাটি করছিল। পরে তাকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকেই স্বামী সাইদুর রহমান পলাতক রয়েছেন।

শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ শাহীনূর আলম বলেন, নিহতের শিশু সন্তানরা জানিয়েছে, তাদের বাবা সাইদুর রহমানই তাদের মাকে হত্যা করেছেন। সাইদুরকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।

ওসি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights