মানবাকৃতি রোবটে চীনের দাপট
অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত সিইএস ২০২৬ শেষ হয়েছে এক স্পষ্ট বার্তা দিয়ে—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আর শুধু কম্পিউটার স্ক্রিনে সীমাবদ্ধ নেই। এটি সরাসরি বাস্তব দুনিয়ায় প্রবেশ করেছে। আর এই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিচ্ছে চীনের রোবট প্রযুক্তি। চীনা রোবটের এমন দ্রুত অগ্রগতি বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
চার দিনব্যাপী এই প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে এক হাজারের বেশি চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। মানবাকৃতি রোবট প্রদর্শনকারীদের মধ্যে চীনা কোম্পানির অংশ ছিল প্রায় ৫৫ শতাংশ। লাস ভেগাস কনভেনশন সেন্টারের গুরুত্বপূর্ণ হলগুলোতে বড় জায়গা দখল করে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরে। টিসিএল (TCL) সেখানে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বুথ স্থাপন করে।
প্রদর্শনীর আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ‘ফিজিক্যাল এআই’। এর মানে হলো, এমন এআই যা রোবট, গাড়ি ও যন্ত্রে যুক্ত হয়ে বাস্তব জগতে কাজ করতে পারে। এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং এটিকে ‘ফিজিক্যাল এআইয়ের চ্যাটজিপিটি মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি রোবট ও স্বয়ংচালিত যানবাহনের জন্য নতুন এআই প্রযুক্তি তুলে ধরেন।
চীনা প্রতিষ্ঠান ইউনিট্রি, ইঞ্জিনএআই ও এক্স-হিউম্যানয়েড তাদের মানবাকৃতি রোবট দিয়ে দর্শকদের তাক লাগিয়ে দেয়। কেউ বক্সিং দেখায়, কেউ নাচে, আবার কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে দৌড়াতে পারে। ইউনিট্রির জি১ রোবটের দাম তুলনামূলক কম হলেও এর ভারসাম্য ও নড়াচড়া ছিল চোখে পড়ার মতো।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হার্ডওয়্যার দিক থেকে চীন অনেক এগিয়ে গেলেও সফটওয়্যার বিষয়ে এখনো পুরোপুরি পরিপক্ব হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই ব্যবধান দ্রুত কমে আসছে এবং প্রতিযোগিতা এড়ানো যাবে না। প্রদর্শনী শেষে বিশ্লেষকদের মত, আগামী দশকে ফিজিক্যাল এআইয়ের নেতৃত্ব কে দেবে, সেটিই হবে বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার মূল লড়াই।
