মার্কিন অস্ত্র ভাণ্ডারের বর্তমানে কি অবস্থা?

অনলাইন ডেস্ক

ইরানের বিরুদ্ধে ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুদ চরম ঝুঁকিতে পড়েছে বলে গণমাধ্যমে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এসব খবরাখবর একপ্রকার উড়িয়ে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখনও বিশাল পরিমাণে গোলাবারুদ রয়েছে এবং দেশটির সামরিক বাহিনী অত্যন্ত সুসংহত অবস্থায় আছে।

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, কিছু বিশেষ শক্তিশালী গোলাবারুদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় অসীম সরবরাহ রয়েছে। তবে কিছু নির্দিষ্ট অস্ত্রের মজুদ কিছুটা কমে আসার কথা স্বীকার করে তিনি জানান, ঘাটতি পূরণে স্থানীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো এখন ঐতিহাসিক মাত্রায় উৎপাদন বাড়াচ্ছে। এর আগে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প গোপনীয় তথ্য ফাঁসের তীব্র নিন্দা জানিয়ে লিককারীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ডের হুঁশিয়ারিও দেন।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ষষ্ঠ মাসে গড়ালে মার্কিন সেনাবাহিনীর ‘এটিএসিএমএস’ ও লং-রেঞ্জ প্রিসিশন স্ট্রাইক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে এসেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিএসআইএস-এর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে থাকা প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের একটি বড় অংশই ইতোমধ্যে ব্যবহৃত হয়ে গেছে। এ ছাড়া থাড ইন্টারসেপ্টর এবং টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহারও আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্পোৎপাদন ত্বরান্বিত করা হলেও অস্ত্রাগার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ২০২৯ সাল বা তার চেয়েও বেশি সময় লেগে যেতে পারে।

অস্ত্রের এই ঘাটতি ও গোপনীয়তা ফাঁসের ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসন ও প্রতিরক্ষা দপ্তরের মধ্যে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে ক্যাম্প ডেভিডের এক বৈঠকে অস্ত্রের সঠিক পরিসংখ্যান প্রকাশ না পাওয়া নিয়ে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলেও খবর বের হয়। সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এই ঘাটতির কারণেই ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালাতে কিছুটা সংযত ভূমিকা রাখছে ওয়াশিংটন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং অস্ত্রাগার পুনরায় পূর্ণ করতে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের কাছে মোটা অঙ্কের অতিরিক্ত তহবিল আবেদন করেছে। তবে সাময়িক টানাপোড়েন সত্ত্বেও ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলা এই সংঘাত খুব দ্রুতই সমাপ্তির দিকে পৌঁছে যাবে।

সূত্র: গালফ নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights