মার্কিন নাগরিকদের ইরান ছাড়ার নির্দেশ কিসের আভাস?

অনলাইন ডেস্ক

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা এবার যুদ্ধের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। তেহরানের সঙ্গে চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন।

শুক্রবার ভার্চুয়াল ইউএস এম্বাসি অব ইরানের পক্ষ থেকে জারি করা এক জরুরি সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, মার্কিন নাগরিকরা যেন কোনোভাবেই সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় দ্রুত ইরান ত্যাগ করেন। মূলত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে শুরু হওয়া এক বিশাল গণআন্দোলনের ওপর রক্তক্ষয়ী দমনপীড়নের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটিতে সামরিক হামলার হুমকি দেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ একটি বিশাল নৌবহর মোতায়েন করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত জানুয়ারি থেকেই এই শক্তিশালী বাহিনী সেখানে অবস্থান করছে। ফলে সরাসরি যুদ্ধের আশঙ্কা এখনও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।

ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, বিমানের ফ্লাইট বাতিল বা বিঘ্নিত হতে পারে, তাই মার্কিন নাগরিকরা যেন প্রয়োজনে তুরস্ক বা আর্মেনিয়া সীমান্ত দিয়ে সড়কপথে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করেন। এ ছাড়া ইরানে যেকোনো সময় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখার কথা বলা হয়েছে। যারা তাৎক্ষণিক দেশ ছাড়তে পারছেন না, তাদের নিরাপদ স্থানে পর্যাপ্ত খাদ্য, পানি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষত মার্কিন-ইরানি দ্বৈত নাগরিকদের জন্য এই সতর্কতা আরও বেশি উদ্বেগের। কারণ ইরান সরকার দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকার করে না এবং তাদের ওপর কড়া নজরদারি ও গ্রেপ্তারের ঝুঁকি রয়েছে। ওয়াশিংটন স্পষ্ট জানিয়েছে, ইরানি কর্তৃপক্ষের হাতে মার্কিন পাসপোর্ট প্রদর্শন করা বা আমেরিকার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ থাকাটাই গ্রেপ্তারের জন্য যথেষ্ট হতে পারে। এদিকে ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর অত্যন্ত চিন্তিত হওয়া উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights