মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের বিরুদ্ধে মামলা করলো আলিবাবা

অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের বিরুদ্ধে মামলা করলো চীনা ই-কমার্স কোম্পানি আলিবাবা।

মূলত পেন্টাগন কর্তৃক ‘সামরিক-সংশ্লিষ্ট’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছে চীনা প্রতিষ্ঠানটি।

বুধবার প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এই ধরনের তালিকাভুক্তি ‘স্বেচ্ছাচারী ও খামখেয়ালিপূর্ণ’ সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।

মামলাটি মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে ফেডারেল আদালতে দায়ের করা হয়। আলিবাবার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর সম্প্রতি প্রকাশিত একটি তালিকায় তাদের এমনভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যেখানে বলা হয়েছে কোম্পানিটির চীনা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, “এই সিদ্ধান্তগুলোর কোনও বাস্তব বা আইনি ভিত্তি নেই।”

আলিবাবার একজন মুখপাত্র বলেন, কোম্পানিটি কোনওভাবেই চীনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত নয় এবং তারা তথাকথিত ‘মিলিটারি-সিভিল ফিউশন’ নীতির অংশও নয়।

তিনি বলেন, “আলিবাবাকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত এবং আমরা প্রতিরক্ষা দফতরের বিরুদ্ধে মামলা করেছি যাতে এই তালিকা থেকে আমাদের নাম প্রত্যাহার করা হয়।”

এই তালিকায় মোট ৮০টি কোম্পানি ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে চীনের আরেক প্রযুক্তি কোম্পানি বাইদু এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি। এই শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, ৩০ জুন থেকে পেন্টাগন এসব কোম্পানির সঙ্গে নতুন কোনও চুক্তি করতে পারবে না এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও ব্যবসায়িক সম্পর্ক সীমিত থাকবে।

মামলায় বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে কোম্পানিগুলোর লবিং ফার্ম নিয়োগের সক্ষমতাও সীমিত হয়ে যাচ্ছে, যা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর (ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট) লঙ্ঘন।

আলিবাবার অভিযোগ, ইতোমধ্যে তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিনিধিত্বকারী লবিং প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে যে, তারা আর কোম্পানিটির পক্ষে কাজ করতে পারবে না। মামলায় আরও বলা হয়েছে, আলিবাবা একটি প্রকাশ্য তালিকাভুক্ত ই-কমার্স ও ক্লাউড সার্ভিস কোম্পানি, যার শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান—জেপি মরগান, সিটিগ্রুপ এবং ব্ল্যাকরকের মতো সংস্থা রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় চীন সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও বিরল খনিজ খনন খাতের সঙ্গে যুক্ত ১০টি কোম্পানির ওপর রফতানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের বিষয়ে প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছে দেশটিতে থাকা চীনা দূতাবাস। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তার ধারণাকে অতিরঞ্জিত করছে এবং চীনা সংস্থাগুলোকে লক্ষ্য করে বৈষম্যমূলক তালিকা তৈরি করছে। সূত্র: আল-জাজিরা, বিবিসি, সিবিএস নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights