‘মিনাপ’ অঞ্চলের চরম দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্ধেক পাকিস্তানের: বিশ্ব ব্যাংক

অনলাইন ডেস্ক
‘মিনাপ’ অঞ্চলের চরম জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেকের বসবাস পাকিস্তানে বলে বিশ্ব ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সংস্থাটি বলেছে, চলতি অর্থবছরে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) হতে পারে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। আর রাজস্ব ঘাটতি হতে পারে জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

‘মিনাপ’ (এমইএনএএপি) হলো বিশ্ব ব্যাংকের ভৌগোলিক শ্রেণিবিন্যাস। এ অঞ্চলে পড়েছে পশ্চিম এশিয়া, উত্তর আফ্রিকা, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান। মিনাপের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ব ব্যাংক তাদের অক্টোবরের প্রতিবেদনে নানা তথ্য তুলে ধরেছে, যেটি প্রকাশিত হয় গত ৬ অক্টোবর।

এতে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সংঘাতের কারণে মিনাপ অঞ্চল ভয়াবহ অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

অতীতে জ্বালানি সংকটের ক্ষেত্রে সাধারণত তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো লাভবান হলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক।

তারা বলেছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

বিশ্ব ব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এ অঞ্চলের অর্থনীতি গড়ে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ সম্প্রসারিত হলেও ২০২৬ সালে তা গড়ে ২ দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে।

“এই সংঘাতের প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ নেই। এর ফলে পর্যটন, বিমান চলাচল ও সরবরাহব্যবস্থাও মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় আর্থিক বাজার ও ব্যবসায়ীদের আস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।”

প্রতিবদনটি ধরে গত ৭ অক্টোবর একটি খবর প্রকাশ করে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন, যার শিরোনাম ছিল, ‘আঞ্চলিক দারিদ্র্যের হার পাকিস্তানে সবচেয়ে বেশি’।

বিশ্ব ব্যাংকের বরাতে ডন লিখেছে, সংঘাত ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের তাৎক্ষণিক প্রভাব মোকাবিলায় নীতিনির্ধারকেরা যখন ব্যস্ত, তখন অঞ্চলটিকে আরেকটি বড় পরিবর্তনের জন্যও প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। সেটি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের উত্থান।

বিশ্ব ব্যাংক বলেছে, এই অঞ্চল বর্তমানে একক কোনো পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে না, বরং ভিন্ন ভিন্ন গতিতে একাধিক পরিবর্তন ঘটছে।

“অধিকাংশ অর্থনীতিতে স্বল্প মেয়াদে এআইয়ের প্রভাব ব্যাপক কর্মসংস্থান বিলুপ্তি না ঘটিয়ে মূলত উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজা এবং ইয়েমেন প্রজাতন্ত্রে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক রয়েছে। এ ছাড়া আফগানিস্তান, জিবুতি, লেবানন ও পাকিস্তানেও খাদ্যনিরাপত্তার ওপর বেশ চাপ তৈরি হয়েছে।

২০২৬ সালের শেষ দিকে এল নিনিও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। সেক্ষেত্রে খাদ্যপণ্যের দামে আরও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ধরন পরিবর্তনের কারণে পাকিস্তান সরাসরি এর ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিশ্ব ব্যাংকের হিসাবে, অঞ্চলটিতে দারিদ্র্যের বোঝা কয়েকটি দেশে অত্যন্ত বেশি। দৈনিক ৩ ডলারের কম আয়ের দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী এ অঞ্চলের মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ৪৮ শতাংশ পাকিস্তানের।

“অন্যদিকে আফগানিস্তান, সিরিয়া ও ইয়েমেনে রয়েছে আরও ৪৭ শতাংশ দরিদ্র মানুষ।”

বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি পাকিস্তানের চেয়ে ১০০১ ডলার বেশি:

বিশ্ব ব্যাংক বিভিন্ন দেশের অর্থনীতির হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণ করে বছরভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

তাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) এখন পাকিস্তানের চেয়ে ১০০১ ডলার ৪০ সেন্ট বেশি।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, ২০২৫ সাল শেষে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৯৭ ডলার ৩ সেন্ট। পাকিস্তানের মাথাপিছু জিডিপি ১ হাজার ৫৯৫ ডলার ৯ সেন্ট। অন্যদিকে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি ২ হাজার ৭০২ ডলার ৫০ সেন্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights