মিলছে না তেল কমে গেছে যানবাহন

নিজস্ব প্রতিবেদক

রেশনিং পদ্ধতিতেও চাহিদামাফিক জ্বালানি না মেলায় রাজধানীতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখন গণপরিবহন কম চালাতে হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। এতে রাজধানীতে নানা প্রয়োজনে নিয়মিত চলাচলকারীদের কিছুটা দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে, ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এ খাতসংশ্লিষ্টরা। তবে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের কাছে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। কিন্তু জ্বালানি তেলের সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনে মজুত করার চেষ্টা করছেন। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত ট্রাস্ট এনার্জির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জামাল হোসেন বলেন, জ্বালানি নিয়ে মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। যেভাবে দেওয়া উচিত, যেভাবে দেওয়া প্রয়োজন, আমরা সেভাবেই দিচ্ছি। সরকারের রেশন নীতি অনুসরণ করেই তেল দেওয়া হচ্ছে।

সরকারি রেশনিং পদ্ধতি অনুযায়ী, প্রতিটি লোকাল বাসের জন্য দিনে ৭০-৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাসের জন্য ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল বরাদ্দের নিয়ম থাকলেও বাস্তবে চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। দেখা গেছে, গত ৬ ও ৭ মার্চ থেকে অধিকাংশ লোকাল বাস মাত্র ২০-২৫ লিটার এবং দূরপাল্লার বাসগুলো ৪০-৫০ লিটারের বেশি ডিজেল সংগ্রহ করতে পারছে না। গতকাল রাজধানীর মহাখালী, খিলক্ষেত, কুড়িল, বিমানবন্দর ও উত্তরা এলাকার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে। লোকাল বাসচালকরা জানান, যানজটের এই শহরে অন্তত দুটি ট্রিপ সম্পন্ন করতে তাদের দৈনিক ৫০-৭০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। ১২০ লিটার ধারণক্ষমতার ট্যাংক নিয়ে পাম্পে গেলেও চাহিদার সামান্য অংশ মেলায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চলাচল।

রাজধানীর বনানী রোডে গুলিস্তান-গাজীপুর পরিবহনের বাসচালক আল আমিন এ প্রতিবেদককে বলেন, সর্বশেষ তেল নিয়েছি গাজীপুরের হাজীরপুকুর এলাকা থেকে। কিন্তু ২০ লিটারের বেশি তেল নিতে পারিনি। অথচ আমার দরকার ছিল ৫০ লিটার। কম তেল পাওয়ায় ট্রিপের সংখ্যাও কমে গেছে। আমাদের বাসে দিনে তিন ট্রিপে ১১০-১১৫ লিটার তেল লাগে। সেখানে গতকাল দুই পাম্প মিলিয়ে মাত্র ৮০ লিটার তেল নিতে পেরেছি। এখন ট্রিপ সংখ্যা কমানো ছাড়া কোনো উপায় নেই। বলাকা পরিবহনের চালক মো. আবুল মিয়া বলেন, যেখানে আমার ৬০ লিটার তেল লাগে, সেখানে পাচ্ছি ২০ লিটার। দিনে ৩-৪টি ট্রিপ দিতে হয়, কিন্তু সেটা পারছি না। তেল নিতে বারবার পাম্পে যেতে হচ্ছে। এয়ারপোর্ট পরিবহনের বাসচালক শামসুল বলেন, পাম্পগুলো ২০ লিটারের বেশি তেল দিচ্ছে না। আবার অনেক পাম্পে তেলই নেই। ফলে বারবার পাম্পে যেতে হচ্ছে, এতে সময়ের অপচয় হচ্ছে। অথচ মালিকের নির্দেশ অনুযায়ী তিনটি ট্রিপই দিতে হবে।

এদিকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জ্বালানি তেল না মেলার কারণ খুঁজতে রাজধানীর কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ স্টেশনেই জ্বালানি নেই। অধিকাংশ পাম্পে ঝুলছে ‘তেল নেই সাইনবোর্ড’। বাড্ডা রুটে চলাচলকারী অধিকাংশ বাস টঙ্গী-গাজীপুর এলাকা থেকে তেল সংগ্রহ করে। প্রোগ্রেসিভ ফিলিং স্টেশন নামে একটি পাম্পে তেল নিতে আসা গাজীপুর পরিবহনের চালক ইসমাইল বলেন, তেল দরকার ৪০ লিটার, অথচ দিচ্ছে ১০ লিটার। যা দিয়ে বেশিক্ষণ চালানো যাবে না, আবার তেল নিতে হবে। এ সময় একজন ব্যক্তিগত গাড়িচালক বলেন, ১২০০ টাকার তেল নিলে লাইনেই ৬০০ টাকার তেল পুড়ে যায়। আমাদের দিচ্ছে ১০ লিটার, অথচ সরকার বলছে সংকট নেই। এটা কেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights