মিশর কি আসলেই বৈষম্যের শিকার, কি বলছে বোদ্ধা-বিশ্লেষকরা?

অনলাইন ডেস্ক

আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে তখন রেফারির শেষ বাঁশি বেজে উঠেছে। একদিকে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার রূপকথার মতো ঘুরে দাঁড়ানোর উল্লাস, অন্যদিকে চোখের জলে মাঠ ছাড়ছেন মিশরের অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ। কিন্তু মাঠের ভেতরের সেই ৩-২ ব্যবধানের উত্তেজনাকে ছাপিয়ে এখন ফুটবল বিশ্বে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে এক চরম বিতর্ক। আর্জেন্টিনার এই জয় কি আসলেই খাঁটি, নাকি এর পেছনে কাজ করেছে কোনো অদৃশ্য রাজনৈতিক কিংবা বাণিজ্যিক প্রভাব; এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বোদ্ধাদের মনে। নকআউট পর্বের এই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ভিএআর বা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ফুটবল বিশ্বে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ম্যাচের একপর্যায়ে দুর্দান্ত খেলে মিশর যখন দ্বিতীয় গোলটি উদযাপন করছিল, ঠিক তখনই নেমে আসে অনাকাঙ্ক্ষিত সেই ধাক্কা। অনেক দেরিতে আসা একটি ভিএআর কলের ওপর ভিত্তি করে মিশরের গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি। অভিযোগ উঠেছে, মাঠে রেফারির চোখ এড়িয়ে যাওয়া একটি সামান্য ফাউলকে পরবর্তীতে ভিএআর দিয়ে টেনে আনা হয় শুধু মিশরের লিড আটকে দেওয়ার জন্য। অথচ এর কিছুক্ষণ পরেই আর্জেন্টিনার একটি গোলের আগে মোহাম্মদ সালাহকে ফাউল করা হলেও রেফারি কিংবা ভিএআর; কেউই সেখানে সাড়া দেয়নি। এই দ্বিমুখী নীতিকে পর্তুগিজ কোচ জোসে মরিনহো সরাসরি ‘দিবালোকে ডাকাতি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। মিশরের কোচ হোসাম হাসান ম্যাচ শেষে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের এই টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখার জন্য অলিখিত সব ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। সম্ভবত ফিফা এবং আয়োজকরা চায়নি লিওনেল মেসির মতো একজন মহাতারকা এত দ্রুত বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিক।

তবে এই বিতর্কের ডালপালা কেবল খেলার মাঠেই সীমাবদ্ধ নেই, তা গিয়ে ঠেকেছে ভূরাজনীতিতেও। ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফিফা প্রধান জান্নি ইনফান্তিনোর মধ্যকার সাম্প্রতিক সম্পর্কের কথা। কিছুদিন আগেই ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড বাতিল করেছিল ফিফা, যা নিয়ে ফুটবল দুনিয়ায় তোলপাড় চলছে। এবার আর্জেন্টিনার এই রহস্যজনক সুবিধা পাওয়ার পেছনে অনেকে মার্কিন প্রশাসনের সাথে আর্জেন্টিনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে মেলাচ্ছেন।

একই সাথে, ম্যাচের আগে মিশরের কোচের ফিলিস্তিনের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেওয়াটাও রেফারির পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণ হতে পারে বলে ক্রীড়া বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। প্রযুক্তির যে ব্যবহার বিতর্ক কমানোর কথা ছিল, এই বিশ্বকাপে তা যেন বিতর্ককে আরও বেশি উসকে দিচ্ছে। মাঠের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও, তাদের এই জয় ফুটবল ইতিহাসের পাতায় এক বিশাল প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়েই রইল।

সূত্র: আল জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights