মিসরের বন্দরে হামলাকে ইসরায়েলি ‘ফলস-ফ্ল্যাগ’ অপারেশন বলছে ইরান

অনলাইন ডেস্ক

মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় দামিয়েত্তা বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন গ্যাস ট্যাংকারে রহস্যময় ড্রোন হামলাকে ইসরায়েলি ষড়যন্ত্র বা ‘ফলস-ফ্ল্যাগ’ অপারেশন বলে জোরালো সন্দেহ প্রকাশ করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, মূলত মুসলিম ঐক্য এবং আঞ্চলিক শান্তি বিনষ্ট করতেই সুপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মিসর অত্র অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ও অংশীদার। আমাদের কাছে তাদের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

এই হামলার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ নতুন ফ্রন্টে ছড়িয়ে পড়ার মারাত্মক আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে এক ফোনালাপে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিও এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন। পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি এই ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা থামাতে মিসর, স্পেন, ইউরোপসহ সমগ্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জরুরি ভিত্তিতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

এদিকে, ড্রোন হামলায় একটি গ্যাস সংরক্ষণকারী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দ্রুত বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে কায়রো। মিসরের প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা মাদবউলি বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী করিম বাদাউই বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, মিসরের নিজস্ব চারটি ভাসমান গ্যাস সংরক্ষণ ও রূপান্তর ইউনিট (এফএসআরইউ) রয়েছে। পাশাপাশি জর্ডানের আকাবা বন্দরে দুই দেশের যৌথ মালিকানাধীন আরও একটি জাহাজ প্রস্তুত রয়েছে।

গত ১৫ দিন ধরে মিসরে বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে (৩৭ থেকে ৩৯ গিগাওয়াট) পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী মাহমুদ এসমত। তবে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেই ৪ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল রয়েছে। কৌশলগত মজুতসহ সরকারের কাছে বিকল্প জ্বালানির বিশাল ভান্ডার রয়েছে।

এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠীই এই নজিরবিহীন হামলার দায় স্বীকার করেনি এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে কর্তৃপক্ষের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights