যতক্ষণ প্রাণ থাকবে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করব

হাসানুর রশীদ, কক্সবাজার

দেশে অস্থিতিশীলতা ও অশান্তি তৈরি করতে বিরোধী দল প্রস্তাবিত বাজেটের বিরোধিতা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়; তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশকে অস্থিতিশীল ও অশান্তি তৈরির মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করা।’ তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ প্রাণ থাকবে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব।’ গতকাল রাতে চকরিয়া উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চকরিয়া উপজেলা বিএনপি সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপি ও অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না এমপি। এর আগে সকালে কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীর পাতলী খাল আনুষ্ঠানিক পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের মালিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়, কোনো পরিবার নয়; দেশের মালিক হচ্ছে ২০ কোটি মানুষ।’ তারেক রহমান বলেন, ‘এ দেশই আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা। দেশকে যদি আমরা গড়তে না পারি তাহলে আমাদের সন্তানরা দুঃখকষ্টে থাকবে। কেউ কি চায় নিজের সন্তান কষ্টে থাকুক? কেউ আমরা চাই না। সেজন্যই আমরা একটি কথাই বলি-করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশের ৭০ থেকে ৮০ ভাগ মানুষ গ্রামে বাস করে। তাদের স্বাবলম্বী করতে মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এবার বাজেটের পরে এখন পর্যন্ত কোনো জিনিসের দাম বৃদ্ধি পায়নি। কারণ চাল, ডাল, তেল, নুন সব নিত্যপণ্যের ওপর যে ট্যাক্স ছিল, প্রস্তাবিত বাজেটে এমন ৬০টি পণ্যের ওপর থেকে ট্যাক্স তুলে নেওয়া হয়েছে; যাতে নিত্যপণ্যের দাম না বাড়ে। এর উদ্দেশ্য-লক্ষ্য একটাই-দেশের মানুষ যাতে ভালো থাকতে পারেন।’ তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল বলছে এ বাজেট তারা মানে না। আপনাদের কাছে আমি প্রশ্ন রেখে যেতে চাই-যে বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দল মানে না। যে বাজেটে মদের দাম বাড়ানো হয়, যে বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দলের পছন্দ নয়। তাহলে এবার বিরোধী দলের উদ্দেশ্য কী, নিশ্চয়ই আপনারা বুঝতে পেরেছেন।’ বাজেটে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্বারোপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শিল্পবাণিজ্য গড়ে তুলতে হবে। শিল্পবাণিজ্য গড়ে উঠলে আমাদের সন্তানদের সেখানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে, তারা চাকরিবাকরি, ব্যবসাবাণিজ্য করতে পারবে।’ তারেক রহমান বলেন, ‘দেশে উৎপাদিত হয় এমন পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করা হলে তার ওপর আমরা ট্যাক্স বাড়িয়েছি। যাতে দেশে যে পণ্যটি উৎপাদিত হচ্ছে, সেই শিল্পকারখানাটি সহায়তা পায়। তার ব্যবস্থা আমরা এ বাজেটের মধ্যে রেখেছি। এটিও বিরোধী দলের পছন্দ নয়!’

লবণ চাষিদের কষ্ট লাঘব করা হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাঁরা যাতে উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পান সেজন্য শিগগিরই দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।’ এর আগে আগে প্রধানমন্ত্রী কোদাল দিয়ে মাটি কেটে পাতালী খাল পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে খালের পারে একটি চারা রোপণ করেন। বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতি হচ্ছে মানুষের উন্নয়নের জন্য। এরই ধারাবাহিকতায় সারা দেশে প্রতিটি উপজেলায় ১০ হাজার করে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। কারণ সাধারণ মানুষ স্বাবলম্বী না হলে কোনো দিন উন্নয়নশীল দেশ হবে না। ইতোমধ্যে বর্তমান সরকার কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মেয়েদের উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্নাতক বা ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা সম্পূর্ণ ফ্রি করা হবে। শুধু তাই নয়, যারা ভালো ফল করবে তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বাজেটে।’

কক্সবাজার সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি আবদুল মাবুদের সভাপতিত্বে ও গিয়াস উদ্দিন জিকুর পরিচালনায় পথসভায় আরও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল প্রমুখ।

২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন : কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা মালুমঘাটের রিংভং এলাকায় গাছের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমনাকে নিয়ে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে প্রবেশ করেন। পরে তিনি পার্ক ঘুরে দেখেন। এ সময় সাফারি পার্কের মূল ফটকের সামনে একটি নাগলিঙ্গম গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাশে বসিয়ে নিজেই চালালেন গাড়ি : ব্যতিক্রমী দৃশ্যের জন্ম দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিমানবন্দরে অবতরণের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে পাশে বসিয়ে নিজেই গাড়ি চালিয়ে গন্তব্যে পৌঁছেন। গাড়িতে ছিলেন ডা. জুবাইদা রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্ত্রী হাসিনা আহমদ।

মোহাম্মদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত : পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা মুরাপাড়ায় ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রাম বিভাগের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র তুলে দেন।

পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন : বিকালে নতুন পেকুয়া পৌরসভা ও সন্ধ্যায় মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১৭ মে পেকুয়া সদর ইউনিয়নকে পৌরসভা ও মাতামুহুরীকে উপজেলা হিসেবে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে সরকার।

কক্সবাজারে মেরিন বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে : কক্সবাজার সফরের সর্বশেষ কর্মসূচি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহরের কলাতলী হোটেল লং বিচে এক সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া দরকার। এখানে একটি মেরিন বিশ্ববিদ্যালয় করার চেষ্টা থাকবে। কক্সবাজারকে একটি পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এ দেশটি আমার, তাই আমাকে এগিয়ে আসতে হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights