রমেক হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু ঘিরে তুলকালাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যু ঘিরে স্বজন ও চিকিৎসকদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, সময়মতো অক্সিজেন না পাওয়ায় ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকদের দাবি, অক্সিজেন ও সিপিআর দিলেও চিকিৎসকের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনার জেরে লাশ আটক রেখে বিক্ষোভ করেন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা। পরে লাশের দাবিতে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন স্বজনরা। রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ভোরে নগরীর জুম্মাপাড়ার নুর নাহার বেগম (৬২) অসুস্থ হয়ে পড়লে ছেলে রিফাত তাঁকে রমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। স্বজনদের দাবি, চিকিৎসকদের কাছে অক্সিজেন মাস্ক দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু না দেওয়ায় দ্রুতই রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটে এবং মৃত্যু হয়। এরপর ক্ষুব্ধ স্বজনদের সঙ্গে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতিও ঘটে। চিকিৎসকদের অভিযোগ, কয়েকজন স্বজন তাঁদের ওপর হামলা চালান। ঘটনার পর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। এদিকে স্বজনদের অভিযোগ, লাশ বুঝিয়ে দিতে গড়িমসি করা হয়। পরে তাঁরা মেডিকেল মোড় এলাকায় রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে লাশ দেওয়া ও বিচারের আশ্বাসে স্বজনরা সড়ক অবরোধ তুলে নেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও লাশ হস্তান্তর করেন। এদিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন অন্য রোগীরা। রাকিব নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘এসে দেখি জরুরি বিভাগ তালাবদ্ধ। অনুরোধ করলেও চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা রোগীকে ভর্তি করাতে দিচ্ছেন না।’ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আসিফ বলেন, ‘নুর নাহার বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ভোর ৪টা ৫ মিনিটে। তিনি মারা যান ৪টা ২০ মিনিটে। ততক্ষণ তাঁকে অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে।’ জরুরি বিভাগ বন্ধ রেখে বিক্ষোভের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি ছিল।’ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, ‘দায়িত্বরত চিকিৎসককে মারধর করায় লাশ আটকে রাখা হয়েছিল। পরে লাশ দেওয়া হয়েছে। মারধরের ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights