যশোরে জামায়াত এমপির বাসভবন ঘেরাও
নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর
যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকার বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় শত শত মানুষ। এ সময় তার বাসভবনে হামলার অভিযোগও ওঠে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীরা যশোর-নড়াইল মহাসড়ক অবরোধ করলে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ, ডিবি ও র্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নীলগঞ্জ এলাকার ‘আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ’ মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। তাদের দাবি, মাদ্রাসার মুহতামিম কবির হোসেনের প্রতিষ্ঠানে শিশুদের যাতায়াত পছন্দ করতেন না এমপি গোলাম রসুলের মেয়ে অনন্যা। তিনি বিভিন্ন সময় মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষার্থীদের বকাঝকা করতেন এবং মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিতেন।
বিক্ষোভকারীদের ভাষ্য, সোমবার সকালে অনন্যা মাদ্রাসায় গিয়ে আয়ান নামে এক শিশু শিক্ষার্থী, রেক্সনা নামে এক নারী এবং নাসির উদ্দিন নামে এক অভিভাবকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এ সময় রেক্সনা আহত হন এবং নাসির উদ্দিনের বাইসাইকেল ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার রাতে দু’পক্ষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে সমঝোতা হলেও মঙ্গলবার সকালে মাদ্রাসা খোলার পর অনন্যা আবার সেখানে গিয়ে মাদ্রাসা বন্ধ করার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সকাল ১০টার দিকে এমপির বাসভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি মীমাংসার জন্য এমপির এক স্বজন ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতার একাংশ তাকে মারধর করে। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা যশোর-নড়াইল মহাসড়ক অবরোধ করে এমপি ও তার মেয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
আহত রেক্সনার ননদ অন্তু অভিযোগ করে বলেন, ‘এমপি সাহেবের মেয়ে প্রায়ই মাদ্রাসায় গিয়ে ঝামেলা করেন। তিনি মাদ্রাসাটি উঠিয়ে দেওয়ার জন্য নানাভাবে চেষ্টা করছেন।’
বিক্ষুব্ধ অনেকেই অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্যের মেয়ে মাদকাসক্ত অবস্থায় প্রায়ই এলাকায় নানা ঝামেলার সৃষ্টি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এমপি গোলাম রসুলের স্ত্রী শারমিন ভীনা বলেন, তার মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসা বন্ধ থাকলেও সেখানে শিশুদের আনাগোনা নিয়ে আপত্তি ছিল। আমার মেয়ে শুধু এর প্রতিবাদ করেছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে আমাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। এখন আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে উল্টো মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মমিনুল হক বলেন, ‘দু’পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।’
কোতোয়ালি থানার ওসি মাসুম খান বলেন, বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঘটনাস্থলে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবীব, র্যাব যশোর ক্যাম্পের ইনচার্জ মেজর এ টি এম ফজলে রাব্বি প্রিন্সসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অবস্থান করছিলেন। এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
