যাদের বিরুদ্ধে ছিল ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ, তারাই এখন শুভেন্দুর সেনাপতি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পশ্চিম বাংলার মসনদে পালাবদলের পর প্রশাসনিক রদবদল ঘিরে তুঙ্গে উঠল রাজনৈতিক বিতর্ক। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন বিজেপি সরকার রাজ্যের নতুন মুখ্য সচিব হিসেবে নিয়োগ করেছে সাবেক মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা মনোজ আগারওয়ালকে। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপদেষ্টা হিসেবে আনা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার সুব্রত গুপ্তকে।
সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এই দুই কর্মকর্তাকে নতুন সরকারের শীর্ষ পদে বসানো নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই নিয়োগকে ‘নির্লজ্জ’ এবং নির্বাচনের ‘পুরস্কার’ বলে কটাক্ষ করেছে ঘাসফুল শিবির।
১৯৯০ ব্যাচের আইএএস অফিসার মনোজ আগারওয়াল আইআইটি কানপুরের সাবেক শিক্ষার্থী। এবারের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচন এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের (এসআইআর) মতো সংবেদনশীল প্রক্রিয়ার পুরো দায়িত্বে ছিলেন তিনি। বর্তমান মুখ্য সচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালার উত্তরসূরি হিসেবে তার নাম ঘোষণা হতেই এক্স হ্যান্ডেলে সরব হয়েছেন তৃণমূল নেতারা।
ডেরেক ও’ব্রায়েন একে নিছক ‘কাকতালীয়’ বলে ব্যঙ্গ করেছেন। অন্যদিকে সাকেত গোখলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি মিলে যে ভোট ‘চুরি’ করেছে, এই নিয়োগ তারই প্রমাণ। রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ প্রশ্ন তুলেছেন, একজন ‘নিরপেক্ষ আম্পায়ার’ যদি শাসক দলের প্রধান আমলা হন, তবে সেই নির্বাচন কতটা অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল তা নিয়ে বড়সড় সংশয় থেকে যায়।
তৃণমূলের এই আক্রমণের পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি বঙ্গ বিজেপি। দলের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ডজনখানেক অফিসারকে টপকে কাউকে নিয়োগ করা হয়নি। বরং নিয়ম মেনে রাজ্যের সবথেকে সিনিয়র আইএএস অফিসার হিসেবেই মনোজ আগারওয়ালকে এই মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। বিজেপির দাবি, তারা প্রশাসনের হৃত গৌরব এবং আইনের শাসন পুনরুদ্ধার করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী জুন মাসেই অবসর নেওয়ার কথা মনোজ আগারওয়ালের, ফলে তার এই মেয়াদ হবে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত।
বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা দ্বিতীয় ব্যক্তি সুব্রত গুপ্তও ১৯৯০ ব্যাচের আমলা। নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় তিনি নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল রোল অবজারভার হিসেবে কাজ করেছিলেন। ভোটের সময় এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই পক্ষপাতিত্বের একাধিক অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল। এবার নতুন সরকার গঠনের পরপরই সেই কর্মকর্তাদের প্রশাসনের শীর্ষস্তরে নিয়ে আসায় শুভেন্দু সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জনমত তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে বিরোধী শিবির। তবে যাবতীয় বিতর্ক উপেক্ষা করেই নতুন সরকার তাদের অভিজ্ঞতার ওপরই ভরসা রাখছে।
সূত্র: এনডিটিভি
