যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করলেই হামলা, উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের হুঁশিয়ারি

অনলাইন ডেস্ক
বাণিজ্যিক জাহাজে ক্রমাগত হামলা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় পুরো অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। এর মধ্যেই মার্কিন সামরিক বাহিনীকে যেকোনো ধরনের সহায়তা প্রদানের বিষয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক সহায়তা বা সুবিধা দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট দেশকে সরাসরি মার্কিন আগ্রাসনের অংশীদার হিসেবে গণ্য করা হবে।

সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার যে খসড়া প্রস্তাব করা হয়েছিল, তা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। দুই পক্ষ আগে বার্তা বিনিময়ের কথা নিশ্চিত করলেও সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সাথে বর্তমানে কোনো ধরনের আলোচনা চলছে না এবং ভবিষ্যতেও এমন কোনো আলোচনার পরিকল্পনা নেই। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে চিত্রায়িত করে একটি বিতর্কিত পোস্ট দেন ট্রাম্প। এতে করে কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের সমস্ত সম্ভাবনা আপাতত থমকে গেছে।

ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলি আবদুল্লাহি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আঞ্চলিক দেশগুলোর নিরপেক্ষতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে সরাসরি সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, স্বাগতিক দেশগুলোর অজ্ঞাতে তাদের সামরিক ঘাঁটিতে বিপুল সংখ্যক মার্কিন যুদ্ধবিমান এবং বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার বিমান অবস্থান করা প্রায় অসম্ভব। ফলে মার্কিন বাহিনীকে সুবিধা দেওয়া দেশগুলোকেও এই যুদ্ধের প্রত্যক্ষ পক্ষ হিসেবে বিবেচনা করবে তেহরান।

এদিকে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সাথে সমস্ত প্রকার আর্থিক ও অর্থনৈতিক লেনদেন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে ইরানের সাথে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। আবুধাবি অভিযোগ করে, তাদের জলসীমা লক্ষ্য করে ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। যদিও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইউএই-এর রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি এডনকের একের পর এক ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনা এবং সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র উত্তেজনার জেরে দুই দেশের সম্পর্ক এখন চরম অবনতির দিকে।

সূত্র: খালিজ টাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights