তিনবারের বিশ্বকাপ জয়ী ম্যাক্সওয়েলের সেরা পাঁচ ইনিংস

অনলাইন ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার তারকা অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। ৩৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলের অংশ ছিলেন। ওমানের বিপক্ষে খেলা সেই ম্যাচটিই ছিল তার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ।

ওই ম্যাচে তিনি তিন ওভার বল করে ১৩ রানের বিনিময়ে ২ উইকেট নিয়েছিলেন, তবে ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি।তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ ফিল্ডার এবং অত্যন্ত কার্যকর বোলার, তবে ব্যাট হাতে ম্যাক্সওয়েল যেন অতিমানবীয় হয়ে উঠতেন। বছরের পর বছর ধরে তিনি এমন সব ইনিংস খেলেছেন যা দেখে মানুষ অবাক হয়েছে।

তিনি কি আদৌ সাধারণ কোনো মানুষ? আসলে, ব্যাট হাতে তিনি ছিলেন এক মরণঘাতী অস্ত্র। তিনিই প্রথম খেলোয়াড় যিনি ওপেনার না হয়েও এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ওয়ানডে ক্রিকেটে ২০০ রান করেছিলেন। এছাড়া রোহিত শর্মার সঙ্গে যৌথভাবে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি করার রেকর্ডটিও তার দখলে।ভিক্টোরিয়া থেকে উঠে আসা এই তারকা ২০১২ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে ফরম্যাটে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে অভিষেক হয়। একই বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে তার টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয়। এছাড়া তিনি সাতটি টেস্ট ম্যাচও খেলেছেন, যার প্রথমটি ২০১৩ সালে ভারতের বিপক্ষে ছিল।

২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তবে সাদা বলের ফরম্যাটে তিনি যতটা ধারাবাহিক ছিলেন, টেস্ট ক্রিকেটে ততটা হতে পারেননি। এখন তার অবসরের ঘোষণার মাধ্যমে, ছয়বারের ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের পুরোনো প্রজন্মের বিদায়ঘণ্টা আরও জোরালো হলো।

টেস্ট ক্রিকেটে নিজের ক্যারিয়ার শেষে তার সংগ্রহ ৩৩৯ রান এবং ৮টি উইকেট। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে অন্যতম বিধ্বংসী খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত ম্যাক্সওয়েল ১৪৯টি ওয়ানডে ম্যাচে ৩৩ গড়ে ৩৯৯০ রান করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে চারটি সেঞ্চুরি ও ২৩টি হাফ-সেঞ্চুরি; পাশাপাশি বল হাতে তিনি নিয়েছেন ৭৭টি উইকেট।

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ১৩০টি ম্যাচ খেলে তিনি ২৮৯৭ রান করেছেন, যেখানে রয়েছে পাঁচটি সেঞ্চুরি ও ১২টি হাফ-সেঞ্চুরি। এই ফরম্যাটে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১৫৪ এবং অফ-স্পিন বোলিংয়ে তিনি নিয়েছেন ৫১টি উইকেট।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের সেরা পাঁচটি ইনিংসের একটি

২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১০২ রান

চমকপ্রদ পারফরম্যান্স উপহার দেওয়ার ক্ষমতার কারণে ‘বিগ শো’ নামে পরিচিত ম্যাক্সওয়েল ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছিলেন। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই ডানহাতি ব্যাটার মাত্র ৫৩ বলে ১০২ রান করেন, যার মধ্যে ছিল ১০টি চার ও চারটি ছক্কা। তিনি ৫১ বলে নিজের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন, যা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে তৃতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অপরাজিত ১৪৫ রান

২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার শ্রীলঙ্কা সফরের সময়, পাল্লেকেলেতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি ম্যাচে এই বিধ্বংসী ব্যাটার ১৪৫ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। দলের হয়ে ইনিংস উদ্বোধনে নেমে তিনি ৬৫ বলে অপরাজিত ১৪৫ রান করেন, যার মধ্যে ছিল ১৪টি চার ও ৯টি ছক্কা। তার এই ইনিংসের সুবাদে সফরকারীরা স্কোরবোর্ডে বিশাল ২৬৩ রান তোলে এবং ম্যাচটি ৮৫ রানে জয়লাভ করে।

ভারতের বিপক্ষে অপরাজিত ১১৩ রান

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত বিরাট কোহলির ৭২ রানের ওপর ভর করে ১৯০ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায়। শেষ দিকে ধোনি ২৩ বলে অপরাজিত ৪০ রান যোগ করলে মনে হয়েছিল, স্বাগতিক ভারতের জয়ের জন্য এই সংগ্রহই যথেষ্ট। এক পর্যায়ে ২২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া যখন চাপে পড়ে, তখন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল দলের হাল ধরেন। তিনি ৫৫ বলে অপরাজিত ১১৩ রানের ইনিংস খেলেন। তার এই ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৯টি ছক্কা, যা অজিদের দুই বল বাকি থাকতেই সাত উইকেটের জয় এনে দেয়।

২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১০৬ রান

২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপটি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের সাবেক এই তারকার জন্য ছিল স্মরণীয়। অস্ট্রেলিয়ার সপ্তম শিরোপা জয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নয়াদিল্লিতে নেদারল্যান্ডসের বোলিং আক্রমণকে গুঁড়িয়ে দিয়ে তিনি মাত্র ৪৪ বলে ১০৬ রানের এক চোখ ধাঁধানো ইনিংস উপহার দেন। মাত্র ৪০ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি, যা কোনো অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারের দ্রুততম ওয়ানডে সেঞ্চুরি।

একই বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত ২০১ রান

ওয়ানডে বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ইনিংস হিসেবে বিবেচিত এই ম্যাচে, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল মাত্র এক পায়ে ব্যাট করেও ১২৮ বলে অপরাজিত ২০১ রান করেন এবং দলকে তিন উইকেটের জয় এনে দেন। আফগানিস্তান প্রথমে ব্যাট করে ইব্রাহিম জাদরানের ১২৯ রানের সুবাদে ২৯১ রান সংগ্রহ করে।

এক পর্যায়ে আফগানরা বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। তারা ৯১ রানেই অজিদের ৭ উইকেট ফেলে দিয়েছিল। তবে অষ্টম উইকেটে ম্যাক্সওয়েল ও প্যাট কামিন্স ২০২ রান যোগ করে নিজেদের দলের জন্য অন্যতম সেরা এক জয় ছিনিয়ে আনেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights