‘যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ক্রীড়াবিদদের জোর করে ফুটবলে নিয়ে আসা উচিত’

স্পোর্টস ডেস্ক
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নকআউট পর্বে বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে হেরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ের পর দেশটিতে সমলোচনার ঝড় বইছে। মাঠের চরম ব্যর্থতা এবং ফোলারিন বালোগানকে নিয়ে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্কের পর মার্কিন ফুটবল দল ও গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিসের ওপর ধেয়ে আসছে তীব্র ক্ষোভ ও ধিক্কার।

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রভাবশালী ক্রীড়া ও পপ-কালচার মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘বারস্টুল স্পোর্টস’-এর প্রতিষ্ঠাতা ডেভ পোর্টনয় নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করে মার্কিন দলের এমন লজ্জাজনক পারফরম্যান্সের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। চরম হতাশায় খেলা চলাকালীনই নিজের গায়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের জার্সি খুলে ফেলে তিনি মন্তব্য করেন, বিশ্বমঞ্চের এই বড় মঞ্চে মার্কিন ফুটবল দল পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে এবং পুরো ম্যাচটি একটি আস্ত তামাশা ছাড়া আর কিছুই ছিল না।

বিশেষ করে মার্কিন গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিসের মারাত্মক ভুলের কড়া সমালোচনা করে পোর্টনয় বলেন, দেশের মানুষ যখন দলকে সমর্থন দিতে উন্মুখ, তখন এমন একজন গোলরক্ষককে খেলানো হচ্ছে যিনি কি না বলে লাথি মারতে গিয়ে মাটিতে লাথি মারেন এবং প্রতিপক্ষকে গোল উপহার দেন। শুধু গোলরক্ষকই নন, রক্ষণভাগের দুর্বলতার দিকে আঙুল তুলে তিনি বলেন, বেলজিয়ামের আক্রমণভাগের সামনে মার্কিন ডিফেন্ডারদের ক্রিসমাস ট্রির মতো এদিক-ওদিক ছুড়ে ফেলা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফিফার মধ্যকার ফোলারিন বালোগান বিতর্ক নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে আলোড়ন তৈরি হয়েছিল, মাঠের এমন যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্সের পর সেই পুরো বিষয়টিকে এখন চরম হাস্যকর ও অর্থহীন বলে মনে করছেন তিনি।

হতাশা ও ক্ষোভ থেকে পোর্টনয় রসাত্মকভাবে মার্কিন ফুটবলের মান বাড়াতে একটি অদ্ভুত প্রস্তাবও দেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প যদি ফিফাকে ধমকিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আমেরিকানদের নিয়ে আলোচনা তৈরি করতেই পারেন, তবে এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ক্রীড়াবিদদের জোর করে ফুটবলে নিয়ে আসা উচিত। বাস্কেটবল কিংবদন্তি লেব্রন জেমসের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন আর অন্য খেলা নয়, লেব্রনসহ দেশের সব সেরা অ্যাথলেটদের ফুটবলে ড্রাফট করতে হবে। বর্তমান মার্কিন ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের ‘দ্বিতীয় সারির কান্ট্রি-ক্লাব অ্যাথলেট’ বলে কটাক্ষ করে পোর্টনয় অকপটে স্বীকার করেন যে, বেলজিয়াম অনেক উন্নত এবং শ্রেষ্ঠ দল হিসেবেই মাঠের লড়াইয়ে জিতেছে। আমেরিকার এমন শোচনীয় পরাজয়ের পর বালোগানকে খেলানোর জন্য এত কান্নাকাটি করাটা যে কতটা অপ্রাসঙ্গিক ও নির্বুদ্ধিতা ছিল, তা এখন পরিষ্কার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights