যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্র হুমকিতে, ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি
স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ আমেরিকান মনে করছেন, দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান সংকটে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শ থেকে সরে গেছে এবং রাজনৈতিক বিভাজন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেকে দেশকে সঠিক পথে ফেরাতে সহিংসতার শঙ্কার কথাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম এনপিআর ও পিবিএস নিউজ-এর যৌথ অর্থায়নে শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ম্যারিস্ট কলেজের ‘ম্যারিস্ট ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক ওপেনিয়ন’ পরিচালিত জরিপে এ চিত্র ফুটে উঠেছে।
গত ৮ থেকে ১১ জুন পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, অংশ নেওয়া প্রতি ১০ জনের ৮ জন, অর্থাৎ ৮২ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান বর্তমানে মারাত্মক হুমকির মুখে। গত ফেব্রুয়ারিতে পরিচালিত একই ধরনের জরিপে এই হার ছিল ৭৮ শতাংশ। সে সময় ১৭ শতাংশ মনে করেছিলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান কোনো হুমকির মুখে নেই।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ৩২ শতাংশ উত্তরদাতা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ২২ শতাংশ বলেছেন তারা চরম হতাশ, আর ২৩ শতাংশ আশাবাদী বলে জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে গর্ববোধ করেন ২২ শতাংশ আমেরিকান।
জরিপে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৬২ শতাংশ স্বতন্ত্র (ইন্ডিপেনডেন্ট) ভোটার মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের কোনো স্পষ্ট আভাস তারা দেখছেন না। তবে রিপাবলিকানদের ৫৫ শতাংশ এ ধরনের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেননি।
এদিকে রিপাবলিকানদের ৯৩ শতাংশ বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে গর্ববোধ করেন বলে জানিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটদের ক্ষেত্রে এই হার ৪৫ শতাংশ।
জরিপে অংশ নেওয়া ৮৩ শতাংশের মতে, যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শ ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সরে এসেছে। বিপরীতে মাত্র ১৬ শতাংশ মনে করেন, দেশটি এখনও প্রতিষ্ঠাকালীন মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত হয়নি। এই মতামত দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ২০ শতাংশ রিপাবলিকান।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, জরিপে অংশ নেওয়া ৩৭ শতাংশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে সহিংসতার প্রয়োজন হতে পারে। মাত্র ১২ শতাংশ বলেছেন, এমন পরিস্থিতির কোনো প্রয়োজন হবে না।
গত অক্টোবরে পরিচালিত আরেকটি জরিপে দেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে সহিংসতার প্রয়োজন হতে পারে বলে মত দিয়েছিলেন ১১ শতাংশ উত্তরদাতা। তখন ১৯ শতাংশ এ ধরনের ধারণার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছিলেন।
