যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি: মুক্ত হওয়া অর্থ জনগণের কল্যাণে ব্যয় হয় তা নিশ্চিত করবে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ইরানের অবরুদ্ধ অর্থ ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে এই অর্থ যেন কোনোভাবেই সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নে ব্যবহার না হয় তা নিশ্চিত করবে ওয়াশিংটন। সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে দুই দেশের মধ্যকার প্রথম ধাপের আলোচনা শেষে সোমবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ বন্ধের উদ্দেশ্যে গত সপ্তাহে একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর অধীনে দুই মাসের একটি আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যার প্রথম অংশটি সোমবার শেষ হলো। এই সমঝোতা স্মারক বা পারস্পরিক বোঝাপড়ার চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং তাদের আটকে থাকা সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ দিতে সম্মত হয়েছে। এই সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ১০০ থেকে ১২৩ বিলিয়ন ডলার।

উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর মার্কিন সমর্থিত শাসক মোহাম্মদ রেজা পাহলভী ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই ইরানের সম্পদ ও তহবিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে পশ্চিমা দেশগুলো।

জেডি ভ্যান্স জানান, এই অর্থ যেন অপব্যবহার না হয় তার একটি চমৎকার সমাধান বের করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার এবং মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের যৌথ সহায়তায় এই পরিকল্পনা করা হয়েছে।

মুক্ত হওয়া অর্থ ছাড়ের পুরো প্রক্রিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বা অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে। এর ফলে ইরানের অর্থ সেদেশের সাধারণ মানুষের খাদ্য সংস্থানে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করতে ব্যবহৃত হবে। এই পদক্ষেপটি পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights