যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদারের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করতে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ প্রবাহ জোরদার করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

মঙ্গলবার হোটেল শেরাটনে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) আয়োজিত ‘যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদারকরণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও রপ্তানি খাতে এখনও একমুখী নির্ভরতা রয়ে গেছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের ওপর অতিনির্ভরতা দেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি রপ্তানি পণ্য বৈচিত্র্যকরণের ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ওষুধশিল্প, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আইসিটি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে রপ্তানি ভিত্তি সম্প্রসারণে কাজ করছে। তরুণ ও দক্ষ জনশক্তির কারণে আইসিটি খাতে বাংলাদেশ দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে উন্নত বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ তিন বছর সময় বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে এবং ২০২৯ সালের নভেম্বর মাসে উত্তরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

বিনিয়োগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ইতিবাচক অবদান রাখলেও সামগ্রিক বিনিয়োগ সম্ভাবনার তুলনায় তা এখনও কম। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগে (FDI) ওঠানামার প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।

প্রযুক্তি স্থানান্তর ও উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর এবং আইসিটি খাতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে। পাশাপাশি সেবা খাতে-বিশেষ করে আইসিটি, ফিনটেক, ই-কমার্স ও ডিজিটাল সেবায়-সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights