রাজশাহীতে ৩০০ গডফাদার

কাজী শাহেদ, রাজশাহী

উত্তরের সীমান্তে মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করছেন ৩০০ গডফাদার। তাদের অধীনে আছেন আরও সহস্রাধিক সদস্য। চট্টগ্রাম থেকে আসা ইয়াবা দিয়ে চলছে উত্তরাঞ্চলের ব্যবসা। সীমান্ত গলিয়ে ভারত থেকে আসছে ফেনসিডিল ও তার বিকল্প সিরাপ। আর কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসছে গাঁজা। রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত পথ দিয়ে আসছে হেরোইন। এগুলো ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। পুলিশ জানিয়েছে, মাদক পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সাহেবনগর, মানিকচক, কোদালকাটি, আলাতুলি বগচর, হাকিমপুর মাদারপুর, মাটিকাটা, সিঅ্যান্ডবি আঁচুয়া, গড়ের মাঠ, রেলগেট বাইপাস, বিদিরপুর, প্রেমতলী, ফরাদপুর, রাজাবাড়ী, খরচাকা, নির্মলচর, পবা উপজেলার সোনাইকান্দি, গহমাবোনা, জাহাজঘাটি, হরিপুর, হাড়ুপুর, চারঘাট উপজেলার ইউছুফপুর, মুক্তারপুর, গোপালপুর, টাঙ্গন, পিরোজপুর, রাওথা এবং বাঘা উপজেলার মীরগঞ্জ, হরিরামপুর ও আলাইপুর সীমান্ত ব্যবহার হচ্ছে।

পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকায় থাকা মাদক কারবারিরা হলেন গোদাগাড়ী উপজেলার মাদারপুরের আবদুর রহিম টিপু, ইসাহাক ল্যাংড়া, আহম্মেদ, শামীম হোসেন ল্যাংড়া, তোফায়েল আহম্মেদ, মনিরুল ইসলাম, আল আমিন ধলু, মোস্তাকিম, ফাতেমা খাতুন, আমেনা খাতুন, শাহরিয়ার নাজিম জয়, সাইফুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, সোহেল রানা পিন্টু, শামীম রেজা, রিনা, তরিকুল ইসলাম ম ল, গোলাম মোস্তফা টিয়া, মোসা. কারিমা ও আবদুর রহিম, মহিষালবাড়ির নুরুন্নাহার, সোহেল রানা, জিয়াউর রহমান, শহিদুল ইসলাম ভোদল, মোফাজ্জল হোসেন মোফা, নাসির, মরিয়ম, মো. ফারুক, জাহাঙ্গীর, লোকমান, নুরুজ্জামান, আবুল কালাম, বেলি বেগম, নুরুজ্জামান কাজল, শামীম রেজা মার্শাল ও হায়দার আলী, ভগবন্তপুরের নাসিমুল হক, জোতগোসাইদাসের শামীম আক্তার রুমেন বিশ্বাস, সাগুয়ানের মো. সেলিম, আঁচুয়া খরবোনার মেজবাউল, সিঅ্যান্ডবির দুরুল ও শাহজাহান, আঁচুয়া ভাটার তাসলিমা ও আরিফুল ইসলাম, আঁচুয়ার ফাতেমা, মিজান ও আবদুল মালেক, আঁচুয়া তালতলার দুলাল ইসলাম, গড়ের মাঠের আবদুল মালেক, বাবু, উজ্জল, আনিকুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলাম, মাটিকাটার জুয়েল রানা, মাটিকাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহেল রানা, বুজরুক রাজারামপুরের মনিরুল ইসলাম ও সুলতানা ওরফে পরী, ফাজিলপুরের পারভেজ, বুলবুল, ইসমাইল, জহুরুল ইসলাম, বারুইপাড়ার মোহন মণ্ডল, সারাংপুরের রাজিবুর রহমান, জহুরা বেগম কলানী, সাইফুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান ও সিরাজুল দারোগা, সুলতানগঞ্জের নবাব আলী জুয়েল, আবদুর রহিম ও দেলোয়ার হোসেন, জাহানাবাদের আবুল কালাম আজাদ, শাহীন ও শরিফুল ইসলাম বিশু, কোদালকাটির মিজানুর রহমান ও শীষ মোহাম্মদ শিশু, সরমংলার মোর্তুজা, গোলাম মোস্তফা ও জামিল, জৈঠা বটতলার শুকুর উদ্দিন, সাগুয়ানের মো. সেলিম, রামপাড়ার আনন্দ রায়, রাতাহারির নাসির, চিকনাপাড়ার বীরেন, দরগা হঠাৎপাড়ার হান্নান আলী, আইহাই ছোট রাহির শিমুল সরেন, বালিয়াঘাটার সোহেল রানা ওরফে কানা সোহেল, আলমগীর হোসেন, লস্করহাটির জহুরা খাতুন ও মেহেদী হাসান পলাশ।

রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে।

রাজশাহী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মেহেদী হাসান জানান, ১৮৪ জন গডফাদারের তালিকা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নওগাঁর পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম জানান, যারা মাদক কারবার করে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছে, তাদের তালিকা করা হয়েছে। সেগুলো যাচাইবাছাইয়ের কাজ চলছে। নওগাঁ-১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে বিজিবির অবস্থান জিরো টলারেন্স। তবে ১১২ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে ৩৬ কিলোমিটারে কাঁটাতারের বেড়া নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights