রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে আরও সক্রিয় ভূমিকায় ভারত
অনলাইন ডেস্ক
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভারত আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি জানান, কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং জ্বালানি নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নয়াদিল্লি উভয় পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এক নিরাপত্তা সম্মেলনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর জানান, সাম্প্রতিক মাস গুলোতে ভারত কেবল শান্তিকামী অবস্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে এই যুদ্ধ নিরসনে ‘কিছুটা বেশি সক্রিয়’ ভূমিকা নিতে শুরু করেছে।
এতদিন রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও সামরিক সম্পর্কের কথা মাথায় রেখে ভারত এই যুদ্ধ নিয়ে একটি সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতি বজায় রেখেছিল। তবে নতুন করে নেওয়া উদ্যোগের মাধ্যমে নয়াদিল্লির এই দৃষ্টিভঙ্গির একটি দৃশ্যমান পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কৃষ্ণসাগরে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের মতো গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশের সঙ্গে ভারতের সংলাপ শুরু হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি সরবরাহ অক্ষুণ্ণ রাখা এবং পরস্পরের ওপর হামলা এড়ানোর বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করা হচ্ছে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানালেও ভারত জাতিসংঘে রাশিয়াবিরোধী প্রস্তাবে ভোটদান থেকে বিরত থেকেছে এবং সরাসরি ক্রেমলিনের সমালোচনা করা এড়িয়ে গেছে।
গত আগস্টের শেষে কিরগিজস্তানে অনুষ্ঠিত সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে এক বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি এই সংঘাত অবসানের আহ্বান জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
জয়শঙ্কর বলেছেন, যুদ্ধ অবসানের জন্য আলোচনা ও কূটনীতি অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিকশিত হয়েছে। এখন তা জ্বালানি, মহাকাশ ও বাণিজ্য-এই ক্ষেত্রগুলোকেও স্পর্শ করেছে।
সেপ্টেম্বরে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মোদি যখন পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, তখন তারা পারস্পরিক সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার করেন। ওয়াশিংটন মস্কো থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে নয়াদিল্লিকে চাপ দেওয়া সত্ত্বেও উভয় নেতার এই সাক্ষাৎ তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
ভারতের সর্ববৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার হওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে নয়াদিল্লির ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারতীয় তেল ক্রয় শুরুতে কিছুটা কমলেও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সময় তা আবারও বেড়ে যায়।
এছাড়া রাশিয়া নয়াদিল্লির প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। ভারতীয় সামরিক বাহিনীর কাছে রুশ তৈরি শত শত যুদ্ধবিমান এবং বেশ কয়েকটি এস-৪০০ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, যা ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে চার দিনের সংঘাতের সময় তা ব্যবহার করেছিল ভারত।
সূত্র: ব্লুমবার্গ।
