রুটের কাঁধে ফের অধিনায়কত্ব, কতটা ঝুঁকি নিল ইংল্যান্ড?
অনলাইন ডেস্ক
রুট এরই মধ্যে ইংল্যান্ডের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটার। তার সামনে এখন শচীন টেন্ডুলকারের ১৫ হাজার ৯২১ টেস্ট রানের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে অধিনায়কত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব সেই যাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
৩৫ বছর বয়সী রুট এর আগে প্রায় পাঁচ বছর ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক ছিলেন। সেই সময় নেতৃত্বের দায়িত্ব তাকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তুলেছিল। এক পর্যায়ে তিনি অধিনায়কত্ব নিজের ক্যারিয়ারের বাধা বলে মনে করেছেন।
এবারও অবশ্য দলের প্রয়োজনে নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছেন তিনি। তবে এই মেয়াদ দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইংল্যান্ড হয়তো ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত অপেক্ষা করে হ্যারি ব্রুককে ভবিষ্যৎ অধিনায়ক হিসেবে প্রস্তুত করতে পারে এমন সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।
রুটের জন্য স্বস্তির জায়গা হতে পারেন নতুন প্রধান কোচ স্টিফেন ফ্লেমিং। নিউজিল্যান্ডের সাবেক টেস্ট অধিনায়ক ফ্লেমিং কৌশলগতভাবে দক্ষ এবং খেলোয়াড়দের ওপর থেকে চাপ কমিয়ে নিজের ওপর দায়িত্ব নেওয়ার জন্য পরিচিত। মইন আলীর মতে, ফ্লেমিং খেলোয়াড়দের চাপ নিজের দিকে টেনে নিতে পারেন।
তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৯ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ফ্লেমিং থাকছেন না। তার অনুপস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মার্কাস ট্রেসকোথিক। ফলে শুরুতেই রুটকে বাড়তি দায়িত্ব সামলাতে হতে পারে।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণের পুনর্গঠন। স্টুয়ার্ট ব্রড, বেন স্টোকস ও জেমস অ্যান্ডারসনের মতো অভিজ্ঞদের অবসরের পর দলের বোলিং বিভাগ হারিয়েছে অভিজ্ঞতা। ফলে নতুন করে একটি দল গড়ে তোলার সময়েই অধিনায়কত্বের ভার কাঁধে নিতে হচ্ছে রুটকে।
রুটের রান নিয়ে অবশ্য কখনোই বড় প্রশ্ন ওঠেনি। বরং নেতৃত্বের অতিরিক্ত চাপ তার ব্যাটিংয়ের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। চাপমুক্ত থাকলে রুট আরও কয়েক বছর শীর্ষ পর্যায়ে ব্যাট করতে পারবেন এমন বিশ্বাসই তুলে ধরেছেন মার্টিন।
ইংল্যান্ড আবারও রুটকে অধিনায়কত্বে ফিরিয়ে এনে একটি ঝুঁকি নিয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে মূল্যবান ব্যাটারের ব্যাটিং যেন নেতৃত্বের চাপে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এটাই এখন তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
