রেকর্ড সর্বনিম্ন জন্মহার : বিয়ে ও সন্তান নিয়ে সিঙ্গাপুর সরকারের নতুন উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক

সিঙ্গাপুরে জন্মহার ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসায় বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার প্রবণতা বাড়াতে নতুন একটি আন্তঃসংস্থার কর্মদল গঠন করেছে সরকার। ২০২৫ সালে দেশটির স্থায়ী বাসিন্দাদের মোট জন্মহার নেমে এসেছে মাত্র ০.৮৭-এ, যা আগের বছর ছিল ০.৯৭। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করেই গঠিত হয়েছে ‘ম্যারেজ অ্যান্ড প্যারেন্টহুড রিসেট ওয়ার্কগ্রুপ’।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মন্ত্রী ইন্দ্রানি রাজাহ এই কর্মদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জনশক্তি, সামাজিক ও পারিবারিক উন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মোট আটজন রাজনৈতিক পদাধিকারী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। কর্মদলটি বিয়ে ও সন্তান পালনের পথে থাকা বাস্তব সমস্যাগুলো বিশ্লেষণ করবে, যার মধ্যে রয়েছে আর্থিক চাপ, কাজ ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য, বাসস্থানের প্রাপ্যতা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা এবং সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা।

২৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ইন্দ্রানি রাজাহ বলেন, এবার সরকার আগের মতো শুধুই ভর্তুকি, বেবি বোনাস বা আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভর করতে চায় না। বরং নিয়োগকর্তা, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় সংগঠন ও সাধারণ মানুষ—সবাইকে যুক্ত করে একটি জাতীয় ও যৌথ উদ্যোগ গড়ে তোলাই এই কর্মদলের মূল লক্ষ্য।

তার ভাষায়, বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত কেবল নীতিনির্ভর নয়; এর সঙ্গে মানসিকতা, সামাজিক পরিবেশ ও নিরাপত্তার অনুভূতিও জড়িত। তাই সমাজজুড়ে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি। তিনি বলেন, এই উদ্যোগে পুরো সিঙ্গাপুরই যেন একটি বৃহৎ কমিটির অংশ।

তিনি জানান, নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়নি। তবে আগের বছরের তুলনায় যদি জন্মহার বাড়ে, কর্মক্ষেত্রে নারীদের জন্য তথাকথিত ‘মাতৃত্বজনিত বাধা’ কমে, তরুণদের পারস্পরিক পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ার সুযোগ বাড়ে—তবে সেটিকে অগ্রগতি হিসেবে দেখা হবে। পাশাপাশি, সন্তান ধারণসংক্রান্ত চিকিৎসা নিয়ে সামাজিক সংকোচ কমানো এবং কাজের জায়গায় আরও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ সূচক হবে।

এই কর্মদল তিনটি মূল বিষয়ে কাজ করবে—দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি, প্রয়োজনীয় নীতিগত পরিবর্তনের প্রস্তাব এবং সমাজকে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা। দলটি ২০২৭ সালের শুরুতে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেবে, তবে এর আগেই কিছু সুপারিশ আসতে পারে।

কর্মদলটি ইতোমধ্যে মার্চ মাসে প্রথম বৈঠক করেছে। সরকারের আশঙ্কা, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে তা দেশের ভবিষ্যতের জন্য গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। ইন্দ্রানি রাজাহ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, এটি সিঙ্গাপুরের জন্য একটি অস্তিত্বগত চ্যালেঞ্জ, আর একে আর ‘স্বাভাবিক নিয়মে’ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। সূত্র :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights