রোজা রেখেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স রাজার, জিতল দল

অনলাইন ডেস্ক

রোজা রেখে খেলা ক্রীড়াজগতে নতুন কিছু নয়। তবে রোজা পালনের মধ্যেই ম্যাচের লাগাম হাতে তুলে নেওয়া যায়, দলকে জেতানো যায়, আর ‘সেরা খেলোয়াড়’ হওয়া যায়—তখন সেটি সাধারণ কোনো গল্প থাকে না। হয়ে ওঠে বিশ্বাস, ধৈর্য আর দৃঢ়তার এক অনন্য উপাখ্যান।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে বৃহস্পতিবার কলম্বোতে ঠিক তেমনই এক গল্প লিখলেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা।

রোজা রেখেই মাঠে নামেন ৩৯ বর্ষী রাজা। কলম্বোর ব্যাপসা গরম, চাপ আর উত্তেজনার মাঝেও তার মনোযোগে চিড় ধরেনি। ম্যাচ জয়ের পর মাঠেই পানির বোতল হাতে নিয়ে ইফতার করতে দেখা যায় তাকে—একটি দৃশ্য, যা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে দর্শকদের হৃদয়ে।

গ্রুপ টসে জিতে আগে ব্যাটিং করে শ্রীলঙ্কা তোলে ৭ উইকেটে ১৭৮ রান। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যেখানে রানবন্যা নিত্যদিনের ঘটনা, সেখানে এই লক্ষ্যকে সম্ভবপর বলেই ধরে নিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। সেই বিশ্বাসে নেতৃত্ব দেন রাজা। ৩ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দলটি—টি–টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়।

ব্যাট হাতে রাজা ছিলেন দুর্দান্ত। ২৬ বলে ৪৫ রানের ঝোড়ো ইনিংসে চারটি ছক্কা মারেন তিনি। সেই সঙ্গে ছুঁয়ে ফেলেন ব্যক্তিগত এক মাইলফলক—টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ছক্কার মালিক এখন রাজাই (১৬)। পেছনে ফেলেন এলটন চিগাম্বুরার ১২ ছক্কার রেকর্ড।

রোজা রেখেই দেড় ঘণ্টা ফিল্ডিং সেশনে বোলিং-ফিল্ডিং, এরপর ব্যাট হাতে ৩১ মিনিট ক্রিজে দাপট। অথচ শারীরিক ও মানসিক নিয়ন্ত্রণ বেশ নিখুঁত ছিলেন রাজা। তারই স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচ শেষে তাঁর হাতেই ওঠে সেরার পুরস্কার।

১৩ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই জয় জিম্বাবুয়েকে গ্রুপ ‘বি’ থেকে শীর্ষ দল হিসেবেই সুপার এইটে তুলে দিয়েছে। আন্ডারডগ হিসেবে টুর্নামেন্টে আসা দলটি এখন আর শুধু চমক নয়—তারা এক সম্ভাবনার নাম।

সেই সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে রইলেন রাজা—যিনি রোজার সংযমে শক্তি খুঁজে নিলেন, আর ক্রিকেট মাঠে লিখে দিলেন এক অনুপ্রেরণার গল্প। সে গল্প আর আত্মবিশ্বাসে ভর করে হয়তো ইতিহাস লিখতে পারে টি-টোয়েন্টির গত আসরে খেলতে না পারা দলটি। রাজা অবশ্য সে কথাই বলেছেন।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সম্প্রচারকারী চ্যানেলে রাজা বলেন, “আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ এগোচ্ছি। ২১ তারিখে পৌঁছাব, ২২ তারিখে অনুশীলন করব—তারপর শুরু হবে আসল লড়াই। যা হওয়ার, হবে। তিন ম্যাচের মধ্যে যদি দুটো জিততে পারি, তাহলে কে জানে কী হয়ে যেতে পারে! সবাই তো আন্ডারডগের গল্পই ভালোবাসে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights