লন্ডনে মার্কিন দূতাবাসের সামনে ফিলিস্তিনের সমর্থনে বিক্ষোভ, গ্রেফতার ৩২৫
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে মার্কিন দূতাবাসের বাইরে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ‘ফিলিস্তিন অ্যাকশন’-এর সমর্থনে বিক্ষোভ থেকে ৩২৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার গত শুক্রবার নাইন এলমস এলাকায় আয়োজিত এ বিক্ষোভে শত শত মানুষ অংশ নেন।
রবিবার লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে ৩২০ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ আইনে নিষিদ্ধ সংগঠনকে সমর্থনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অনেকের হাতে প্ল্যাকার্ড ছিল। তাতে লেখা ছিল, ‘আমি গণহত্যার বিরোধিতা করি। আমি ফিলিস্তিন অ্যাকশনকে সমর্থন করি।’ সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার করে ভ্যানে তুলে নিয়ে যান। এ সময় অনেক বিক্ষোভকারী হাততালি দেন এবং ‘মুক্ত ফিলিস্তিন’ স্লোগান দেন।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে ফিলিস্তিন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে যুক্তরাজ্য সরকার। এরপর সংগঠনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তারের সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞার বৈধতা নিয়ে আইনি লড়াই চলছে। যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টে এ নিষেধাজ্ঞা পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংগঠনটির সহপ্রতিষ্ঠাতাকে এ বিষয়ে আপিল করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আপিলের বিরোধিতা করবে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৭৫ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত আইনজীবী চার্লস অ্যালিসন বলেন, মানুষের নাগরিক স্বাধীনতা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। তাঁর মতে, নাগরিক অধিকার ক্রমেই সংকুচিত করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সুপ্রিম কোর্ট নিষেধাজ্ঞাটিকে বেআইনি ঘোষণা করবে। পরে পুলিশ তাকেও গ্রেফতার করে।
আরেক বিক্ষোভকারী ডেভিড বোল্ডেন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অযৌক্তিক আইন’ বলে উল্লেখ করেন। নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক বিক্ষোভের সমন্বয়কারী সংগঠন ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস’ জানিয়েছে, এ সপ্তাহের গ্রেপ্তারসহ সংগঠনটি নিষিদ্ধ হওয়ার পর মোট গ্রেফতারের সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে।
অন্যদিকে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউকে গণগ্রেফতারের সমালোচনা করেছে। একই সঙ্গে সংগঠনটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। ডিফেন্ড আওয়ার জুরিসও গ্রেপ্তারের ঘটনাকে অন্যায় এবং বাক্স্বাধীনতার ওপর বড় আঘাত বলে মন্তব্য করেছে।
সূত্র : বিবিসি
