লালনের সুরে বাণী ও মানবতার সন্ধান
সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক
জাত-ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ভুলে মানুষকে ভালোবাসা, সাম্য ও মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন ফকির লালন সাঁই। তার গানে উঠে এসেছে আত্মোপলব্ধি, মানবমুক্তি ও অসীমের সন্ধান। একইসঙ্গে সমাজের সংকীর্ণতা, কুসংস্কার ও ধর্মীয় ভেদাভেদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠেছে তার বাণী। আর সেসব ভাববাণীর নিগূঢ় তত্ত্ব আর সুরের খেলায় ১৩৬তম তিরোধান দিবসে লালনকে স্মরণ করেছে শিল্পকলা একাডেমি।
লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় শিল্পকলা অ্যাকাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়। আলোচনা ও সংগীত পরিবেশনায় সাজানো অনুষ্ঠানে শিল্পীরা তুলে ধরেন লালনের কালজয়ী দর্শন ও মানবিক বোধ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ শিল্পকলা অ্যাকাডেমির কণ্ঠশিল্পীরা সমবেত সংগীত পরিবেশন করেন। এরপর লালনসংগীত পরিবেশন করেন দেশের বিশিষ্ট শিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়া, আলেয়া বেগম, লতিফ শাহ, নাসরিন সুলতানা বিউটি, সুমন রায়, কানিজ খন্দকার মিতু, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস ও পাখি বাউলিয়ানা। এ ছাড়া জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) শিল্পীরাও সংগীত পরিবেশন করেন।
‘দেখা দিয়েও হে রাসুল’, ‘দৈন্য দৈন্য বলি তারে’, ‘কৃষ্ণ প্রেমে পোড়া দেহ’, ‘আমি অপার হয়ে বসে আছি’, ‘হেলায় হেলায় দিন বয়ে যায়’, ‘ঘরে কেবা জাগে কেবা ঘুমায়’, ‘ধন্য ধন্য বলি তারে’, ‘আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে’ ও ‘মিলন হবে কত দিনে’সহ লালনের নানা ভাবগানের পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে মিলনায়তন। শিল্পীদের কণ্ঠে সাঁইজির বাণী ও সুরে যেন নতুন করে ধরা দেয় তার মানবতাবাদী দর্শন।
অনুষ্ঠানের আগে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম এবং বিএনপির সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল। মুখ্য আলোচক ছিলেন শিল্পী ও গবেষক অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ও বাংলাদেশ শিল্পকলা অ্যাকাডেমির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহা. হারুন-অর-রশীদ।
আলোচনা সভায় আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় ধর্মকেন্দ্রিক উগ্রতার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে লালনের সাম্য ও সহনশীলতার দর্শন চর্চা করা জরুরি।
তিনি বলেন, ধর্ম পালন করা বা না করা প্রত্যেকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। কাউকে আঘাত বা হেয় না করে সবার মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং মানুষের মধ্যে সমতার মনোভাব গড়ে তোলাই লালনের মূল শিক্ষা। এই শিক্ষা নিজেদের জীবনে চর্চা করার আহ্বান জানান তিনি।
