লোকালয়ে ছোটাছুটি করছে দলছুট বানরটি
দিনাজপুর প্রতিনিধি
খাবারের খোঁজে বন-জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে একটি বানর। কেউ দেখে ভয় পাচ্ছে আবার অনেকে ঢিল মারার কারণে বানরটি পালিয়ে যাচ্ছে। এভাবে বানরটি এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ছোটাছুটি করছে। কোথাও নির্দিষ্টভাবে থাকছে না। তবে অনেকে প্রাণীটিকে খাবারও দিচ্ছে এবং এটি ভয়ে ভয়ে খাবার নিয়ে খাচ্ছেও।
তবে বানরটিকে দেখে অনেকে বলছেন, এটি ক্ষুধার্ত, ক্লান্ত। এই বন্যপ্রাণীটিকে রক্ষা করতে বন বিভাগের এগিয়ে আসা উচিত বললেন স্থানীয়রা।
দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকদিন থেকে বিচরণ করতে দেখা গেছে বানরটিকে। গত কয়েকদিন ধরে চিরিরবন্দরের রানীরবন্দরের বিভিন্ন বাড়িতে ও গাছের ডালে বা উন্মুক্ত স্থানে বানরটিকে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। বানরটি কখনো টিনের চালে, কখনোবা বিভিন্ন গাছের ডালে দৌঁড়ঝাঁপ করে বেড়াচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরেই বানরটিকে উপজেলার রানীরবন্দরের তেগআলী শাহ্পাড়া, নশরতপুর বাজার, সুইহারী বাজার, পালপাড়া, দীঘলনালীপাড়া, ফকিরপাড়া, ঘন্টাঘর এলাকায় বিভিন্ন বাড়িতে কিংবা গাছের ডালে খাবারের সন্ধানে বানরটি ঘুরে বেড়াচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার সকালে বানরটিকে তেগ আলী শাহ্পাড়ায় বিভিন্ন বাড়িতে ও গাছের ডালে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়।
স্থানীয় রফিকুল ইসলাম, কাঞ্চন সরকার, আমিনুল ইসলামসহ অনেকে বলেন, চিরিরবন্দর উপজেলা ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা। বানরটি হয়তো ভারত থেকে এসেছে। ১০-১৫দিন ধরে বানরটিকে রানীরবন্দরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে।
তেগ আলী শাহ্পাড়ার মো. আব্দুল্লাহসহ কয়েকজন বলেন, সকাল বেলা বানরটিকে আমার বাড়ির সামনে দেখতে পাই। আমরা বানরটিকে কলা, আপেল, বাদাম খাবার দিই। বানরটি চালের ওপর থেকে খাবারগুলো নিয়ে খাচ্ছে। দীঘলনালী পাড়ার মো.ওয়াজেদ আলী জানান, কয়েকদিন আগে এখানেও বানরটিকে দেখতে পাওয়া যায়। স্থানীয় নারী-পুরুষ ও ছেলেমেয়েরা তাকে পেঁয়ারা, কলাসহ বিভিন্ন প্রকার খাবার খেতে দিয়েছে।
দিনাজপুর বনবিভাগের জাতীয় উদ্যান রামসাগরের তত্ত্বাবধায়ক মো. আব্দুল মান্নান জানান, বানরটি সীমান্তবর্তী ভারত থেকে আসতে পারে। অনেক সময় ক্ষুধার্ত অবস্থায় বানরটি খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে চলে এসেছে। সুবিধামত স্থানে নেমে বানরগুলো খাদ্যের সন্ধান করে থাকে। তিনি আরও বলেন, উৎসুক মানুষ যেন বানরটির কোনো ক্ষতি করতে না পারে সেদিকে নজর রাখতে হবে। আমরা বন বিভাগের পক্ষ থেকে বানরটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করবো। বন্যপ্রাণীটিকে রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।
