শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে লালমনিরহাটে মানববন্ধন

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

কলেজশিক্ষক আরিফুল ইসলামের (৩২) ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে লালমনিরহাটে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। ​রবিবার (৯ আগস্ট) সকালে জেলার মোগলহাট টেম্পুস্ট্যান্ড রোডে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট এলাকার বাসিন্দা। তিনি ৪১তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) কর্মকর্তা এবং বর্তমানে লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে কর্মরত। গত ১ আগস্ট কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তিনি হামলার শিকার হন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে হত্যার উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা হামলা করেছে। আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। একই সঙ্গে আগের অসম্পূর্ণ মামলাটি বাতিল করে মূল অভিযুক্তদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে নতুন মামলা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

​মামলার এজাহার অনুযায়ী, আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া এলাকার রহিদুল ইসলাম, হাসান আলী ও মাসুদ আলীসহ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবৈধ অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো পরিচালনা করে আসছে। চক্রটির প্রভাবে এলাকার বহু মানুষ সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। সচেতন নাগরিক হিসেবে শিক্ষক আরিফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এই জুয়ার প্রতিবাদ করে আসছিলেন এবং তা বন্ধ না করলে পুলিশকে জানানোর হুঁশিয়ারি দেন।

​এরই জেরে অভিযুক্তরা লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা করে। তারা মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রেখে যায়।

​আহত শিক্ষকের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে তার ছেলের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। হামলার ৯ দিন পার হলেও তার জ্ঞান ফেরেনি। প্রথমে তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

​ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ মোট ১০ জনের নাম উল্লেখ করে আদিতমারী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে পুলিশ এখনও কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তা নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights