শিশির-সিক্ত ঘাসে পদ-সঞ্চালনে মিলবে যে উপকার

অনলাইন ডেস্ক
পায়ের পেশি, হাড় ও রক্তনালির বিভিন্ন গুরুতর সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই। তবে এইসব রোগ থেকে সহজেই মিলতে পারে মুক্তি। আর সেই কৌশলও আছে মানুষের হাতের নাগালে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে খুব সকালে খালি পায়ে শিশির ভেজা ঘাসে হাঁটা। শিশির-সিক্ত ঘাস যেমন আপনার পায়ের তলায় আরামের অনুভূতি দেবে। তেমন দেবে অনেক রোগের উপশমও। সাথে সকালের নির্মল প্রকৃতি আপনার মনকে করবে ঝরঝরে। তবে যাদের ঠাণ্ডা লাগার ভয় আছে, তাদের থাকতে হবে সাবধানে।

প্রতিদিন হাঁটলে অনেক সুফল মেলে, বহু গবেষকই এ কথা বলেছেন বহুবার। তাদের মতে, ভোরের নির্মল দূষণমুক্ত বাতাসে বুক ভরে নিশ্বাস নিলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ে, সেই সঙ্গে দেহে রক্ত চলাচলও ভালো হয়। সেই সাথে খালি পায়ে ভেজা ঘাসে হাঁটাহাঁটি করলে সারা শরীরে রক্তের পরিসঞ্চালন বাড়ে। এই পরিসঞ্চালনের মাধ্যমেই শিশির হাঁটা বা ডিউ ওয়াকিং এর সুফল পাওয়া যায়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পায়ের পাতার কাছের রক্তনালিগুলো ঠাণ্ডা শিশিরের সংস্পর্শে উদ্দীপিত ও সংকুচিত হয়। এতে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় শরীরের রক্তনালিগুলোতে সার্বিক ভাবে রক্তপ্রবাহে এক চনমনে ভাব জাগে। এভাবেই এই ডিউ ওয়াকিং আমাদের হৃদরোগ, রক্ত ঘন হয়ে আসার প্রবণতা, রক্তনালিতে চর্বি জমা, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি রোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সরাসরি পায়ের পাতায় ভেজা ঘাসের স্পর্শ লাগার কারণে স্নায়ুতন্ত্র খুবই উপকৃত হয়। ভেজা ঘাসে পা ফেলার সঙ্গে সঙ্গে হাইড্রোথেরাপির মাধ্যমে স্নায়ুগুলো তরতাজা হয়ে ওঠে। এতে প্রোপ্রিয়োসেপ্টিন জাগ্রত হয় বা যে স্থানে আমরা অবস্থান করছি তা সম্পর্কে দেহে সঠিক অনুভূতি ও সচেতনতা সৃষ্টি হয়।

পায়ের রক্তনালির ক্ষীণ পরিসঞ্চালনের জন্য শেষ বয়সে অনেকেই ভেরিকোস ভেইন্স বা ফ্ল্যাট ফুট রোগে ভুগে থাকেন। এর ফলে খুঁড়িয়ে হাঁটেন অনেকেই, পঙ্গু হয়ে যান কেউ কেউ। অথচ সকালে বাইরে গিয়ে শিশির ভেজা ঘাসে হাঁটার অভ্যাস থাকলে এই ভয়ংকর রোগগুলো থেকে খুব সহজেই মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। ডায়বেটিস জনিত স্নায়ুতন্ত্রের জড়তাতেও এর কার্যকারিতা পাওয়া যায়। এছাড়া মাথা ব্যথা মাইগ্রেনের জন্য ডিউ ওয়াকিং নামের এই হাইড্রোথেরাপি খুবই সুফল বয়ে আনতে পারে। খুব শক্ত প্রমাণ না পেলেও, বেশির ভাগ গবেষকেরই মতামত হচ্ছে, সবুজ গাছগাছালি, মাঠ, ঘাসের দিকে তাকিয়ে থাকলে দৃষ্টি শক্তি বাড়ে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে, আমাদের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করতে ডিউ ওয়াকিং এর ভূমিকা অনেক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights