শিশু মুরসালিন হত্যা: রহস্যের জট খুলল পিবিআই
ফরিদপুর প্রতিনিধি
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার চন্দনা-বারাশিয়া নদীর পাড়ে সরদারপাড়া কালীমন্দিরে পাশে গত ২০২২ সালের ২৬ ডিসেম্বর একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তায় মানবদেহের মাথার খুলিসহ ৭০ পিচ হাড়গোড় উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর এ ঘটনায় মধুখালী থানার উপ পরিদর্শক সৈয়দ তোফাজ্জেল হোসেন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটির তদন্তভার পিপিআই এর ওপর ন্যস্ত করে। মামলাটির তদন্তভার এসআই (নিরস্ত্র) রামপ্রসাদ ঘোষের উপর দেন জেলা পিবিআই এর পুলিশ সুপার। তদন্তভার পেয়েই তিনি, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির হাড়গোড় এর ডিএনএ প্রোফাইল এর সহিত আশাপুর এলাকার ইতি খাতুন ও স্বামী মোঃ আশরাফুল শেখের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরী বাংলাদেশ পুলিশ, মালিবাগ ঢাকায় পাঠানো হয়। ‘ডিএনএ পরীক্ষায়, অজ্ঞাত মৃতদেহর হাড় হতে একজন পুরুষের পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়। ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় যে, অজ্ঞাত মৃতদেহ আশরাফুল শেখ এবং মোসাঃ ইতি খাতুন যুগলের সন্তান মুরসালিন (১১) এর।
এই ঘটনার পর তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তায় ঘটনার মূল অভিযুক্ত মুরসালিনের সৎ পিতা মোঃ মিজানুর রহমানকে ২৩ জুলাই মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার ওয়াবদা মোড় এলাকা হতে গ্রেফতার করে পিবিআই।
ফরিদপুরের পিবিআই এর পুলিশ সুপার মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উদঘাটনের জন্য একটি শক্তিশালী টিম গঠন করা হয়। নিহত মুরসালিন এর হত্যাকারী তারই সৎ পিতা মোঃ মিজানুর রহমানকে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে আসামি মোঃ মিজানুর রহমান তারই সৎ ছেলে মুরসালিনকে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করে ৫নং আমলী আদালতের বিচারক মোঃ ফরিদ উদ্দীন এর কাছে। তিনি আরো বলেন, মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
আসামি মিজান স্বীকারোক্তিতে বলেন, ঘটনার দিন সকালে তিনি মরিচ ক্ষেতে কাজ করছিলেন। এসময় ঘর হতে মুরসালিনকে বের হতে দেখে তাকে ডেকে নিয়ে তার মা কোথায় গিয়েছে বলে জানতে চান। তবে প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না পেয়ে তিনি মুরসালিনের কানে সজোরে থাপ্পড় মারেন। ফলে কানের পর্দা ফেটে রক্তাক্ত মুরসালিন মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা যায়। এরপর সড়কের পাশে বড় ঘাসের আবডালে মুরসালিনের লাশ লুকিয়ে রাখেন মিজান। রাতে ঘর থেকে একটি প্লাস্টিকের বস্তা নিয়ে মুরসালিনের লাশ বস্তাবন্দি করে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে নিয়ে নদীর পাড়ে মাটির নিচে পুঁতে রেখে আসেন।
