শীতে কাবু রংপুর চিড়িয়াখানার প্রাণিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

প্রায় এক মাস থেকে রংপুরসহ সারা দেশে শীতের সাথে বয়ে যাচ্ছে হিমেল হাওয়া ঘন কুয়াশা। এই অবস্থায় মানুষের পাশাপাশি প্রাণি জগতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। রংপুরের বিনোদন উদ্যান চিড়িয়াখানার পশু-পাখিগুলো শীতের তীব্রতায় কাহিল হয়ে পড়েছে। তবে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বলছেন শীতে পশু পাখিদের বিশেষ যত্ন নেয়া হচ্ছে।

রংপুর চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখা গেছে, ৩২ প্রজাতির ২৫৪টি প্রাণি রয়েছে। চিড়িয়াখানায় যেসব রয়েছে বাঘ, সিংহ, জলহস্তি ৩ টি, ময়ুর ৮টি, হরিণ ৫৯ টি,অজগর সাপ দুটি,ইমু ৩টি, উটপাখি ১টি, বানর ৯টি, কেশওয়ারি ১টি, গাধা ৮টি, ঘোড়া ২টিসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি উল্লেখযোগ্য। দেশে দুটি সরকারি চিড়িয়াখানের মধ্যে রংপুর একটি। এসব প্রাণিগুলোর মধ্যে নিঃসঙ্গ অবস্থায় রয়েছে উটপাখি, হনুমান, কেশওয়ারি। এরা সঙ্গীর অভাবে বংশ বিস্তার করতে পারছে না।

শীতর কারণে হিটার দিয়ে সিংহের খাঁচা গরম রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘোড়ার গায়ে দেয়া হয়েছে কম্বল। এছাড়া বেশ কিছু প্রাণির উষ্ণতার জন্য খড় এবং চট ব্যবহার করা হচ্ছে। হরিণ, বানর, ঘোড়া, গাধা, বাঘ, সিংহ, উটপাখি, ইমুপাখি, চিলপাখিসহ অন্যান্য পশুপাখি শীতে অনেকটা নেতিয়ে পড়েছে। শনিবার দুপুরে সূর্যের আলো দেখায় যাওয়ায় প্রাণিগুলো যেন হাঁফ ছেড়েছে। প্রতিটি খাঁচার ভেতরে পশু-পাখিগুলো গুটিসুটি মেরে বসে আছে। খাঁচার ভেতরে শীতে কাহিল সিংহ ও বাঘ। বানরগুলো লাফালাফি না করে খাঁচার কোণায় চুপিসারে বসে রয়েছে।

চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা.আম্বর আলী তালুকদার বলেন, শীতে প্রাণিদের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সব সময়ের জন্য চিকিৎসা সেবা, অসুস্থ হলে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। যে সব প্রাণী একেবারে শীত সহ্য করতে পারে না, তাদের প্রতিটি খাঁচার চারদিকে চট দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। এছাড়া সিংহের খাঁচায় রুম হিটার দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights