শুভেন্দুর সহকারী হত্যায় গ্রেপ্তার ৩
দীপক দেবনাথ, কলকাতা
পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে বড় সাফল্য পেয়েছে রাজ্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার (১০ মে) বিহারের বক্সার থেকে মায়ঙ্ক রাজ মিশ্র এবং ভিকি মৌর্যকে আটক করা হয়। অন্যদিকে উত্তর প্রদেশের বালিয়া থেকে রাজ সিংকে আটক করা হয়।
সংশ্লিষ্ট রাজ্যের পুলিশের সহায়তায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের রবিবার রাতে আটক করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি। রাতেই উত্তরপ্রদেশ থেকে কলকাতা নিয়ে আসা হয় ওই তিন অভিযুক্তকে। রাতভর সিআইডির সদর দপ্তর ভবানী ভবনে জিজ্ঞাসাবাদের পর, সোমবার সকালে মধ্যমগ্রাম থানার হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং তিনজনকেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এদিন সকালে গণমাধ্যমের নজর এড়িয়ে তাদের বারাসাত আদালতে তোলা হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (বিএনএস)-এর অধীন ১০৩(১)/১১১(২)(ক)/১২৬(২)/৩(৫) এবং ৬১(১) ধারা সহ ২৫/২৭ অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, প্রাথমিক অনুসন্ধানে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আন্তঃরাজ্য অপরাধচক্রের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত মিলেছে। ডিজিটাল লেনদেনের সূত্র ধরেই মূলত অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
জানা গেছে, হামলার পর আততায়ীরা বালি টোল প্লাজা অতিক্রম করার সময় ইউপিআইয়ের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করে। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করেই সিআইডি উত্তর প্রদেশে অভিযান চালায় এবং তিনজন শার্প শুটারকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে হামলার শিকার হন চন্দ্রনাথ রথ। শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের ঠিক আগমুহূর্তে দুষ্কৃতীরা খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে চার রাউন্ড গুলি চালায়। এতে তার বুক ও হাতে গুলি লাগে।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এই হত্যাকাণ্ডের পর রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় সিআইডি ও এসটিএফকে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখন খতিয়ে দেখছেন, কার নির্দেশে এই পেশাদার খুনিদের ভাড়া করা হয়েছিল। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক বিরোধ নাকি ব্যক্তিগত কোনো কারণ রয়েছে, সেটিও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
চন্দ্রনাথ রথ দীর্ঘদিন ধরে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। নির্বাচনের পরপরই এ ধরনের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বিজেপি নেতারা।
