শেখ মুজিবুর পাকিস্তান রাষ্ট্রকে একসঙ্গে রাখার চেষ্টা করেছিলেন: আবদুর রব

অনলাইন ডেস্ক
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) নেতা আ. স. ম. আবদুর রব বলেছেন, শেখ মুজিবুর রহমান এবং আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পাকিস্তানকে এক রাষ্ট্র হিসেবে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি এই মন্তব্য একটি পুরনো সাক্ষাৎকারে করেন, যা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

সেখানে আবদুর রব বলে, নির্বাচনের পরও শেখ মুজিবুর রহমান ইয়াহিয়া খান ও জুলফিকার আলি ভুট্টোর সঙ্গে নেগোসিয়েশন করার চেষ্টা করছিলেন, যাতে পাকিস্তানকে এক রাষ্ট্র হিসেবে বজায় রাখা যায়। তবে এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ, যুব সমাজ এবং স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াস সক্রিয়ভাবে কাজ করে, যাতে কোনোভাবেই মুজিব পাকিস্তানকে এক রাষ্ট্র হিসেবে বজায় রাখার চেষ্টায় সক্ষম না হন।

তিনি ৭ মার্চ স্বাধীন বাংলার পতাকা শেখ মুজিবুর রহমানকে পল্টন ময়দানে হস্তান্তর করেন বলে জানান। তখন শেখ মুজিব বলেন, ‘এটা অনেক বেশি অ্যাডভান্স, ইটস ট্যু আরলি’। কিন্তু রব বলেন, এটি সঠিক সময়।

ভিডিওতে তিনি বলেন, পরবর্তী রাতে রাত ১১টায় শেখ মুজিবের বাসায় দেখা করার সময় তাকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, পাকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধান বা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থাকা এবং আওয়ামী লীগের লোকদের মাধ্যমে পাকিস্তানিদের সঙ্গে আঁতাত করা বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে না।

মুজিব ২৫ মার্চ ইয়াহিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তার গাড়িতে জোর করে স্বাধীন বাংলার পতাকা লাগানো হয় বলেও জানান রব। পরে মুজিবের পক্ষ থেকে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সেনাবাহিনী পাঠানো, দুইটি কারেন্সি চালু, আলাদা ব্যাংক চালু ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয় ইয়াহিয়ার সঙ্গে।

তবে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা, জাসদ কর্মীদের নিপীড়ন, সাংবাদিকতা ও মৌলিক অধিকার দমন, এবং ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ প্রভাবিত হয় বলে তিনি জানান।

রব বলেন, মুজিব ক্ষমতায় থাকার জন্য হাজার হাজার রাজনৈতিক কর্মীকে হত্যা করে, জাসদের ১০ হাজার কর্মীকে জেলে রাখে, মোশারফ হোসেন ও সিরাজ শিকদারকে হত্যা করে। ফ্যাসিবাদী কায়দায় তিনি ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights