শ্রমিকদের দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি বিদেশি ভাষাও জানতে হবে: শ্রমমন্ত্রী

শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, চট্টগ্রামস্থ বাংলাদেশ কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দক্ষ শ্রমিক তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি ভাষা জানার দক্ষতাও বাড়াতে হবে। শ্রমিকদের বিদেশি ভাষাও জানতে হবে।

তিনি বলেন, জাপানি, ইংলিশ, এরাবিক ও কোরিয়ান ভাষা যাতে প্রশিক্ষণ দেয়া যায় সে উদ্যোগ নিতে হবে। এই সম্ভাবনাময় আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারে যেতে হলে দক্ষ শ্রমিক তৈরি করলেও, ভাষা না জানলে কোন কাজে আসবে না।

শনিবার দুপুরে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর সংস্থার কর্মকর্তা ও চট্টগ্রামের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রম আদালতের বিজ্ঞ বিচারকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

চট্টগ্রামের নাসিরাবাদস্থ শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তন মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে মন্ত্রী চট্টগ্রামস্থ বাংলাদেশ কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ ক্লাসসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বিদেশে গ্রাফিক্স ডিজাইনের খুব চাহিদা রয়েছে। কেয়ার গিভারের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু আমাদের সেগুলো নিয়ে কোন প্রচারণা নেই। এগুলো কিভাবে প্রচার করা যায় সেই ব্যাপারে আরো কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, আমি সবাইকে অনুরোধ জানাব, বাংলাদেশ কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ দেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে যাতে দক্ষ জনবল তৈরির পাশাপাশি চাহিদা আছে এমন দেশের ভাষা প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরও বলেন, আমি চট্টগ্রামে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছি। বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের দেশের সম্পদ। তাদেরকে সহযোগিতা করলে দেশ ও জাতির জন্য আরও অবদান রাখার সম্ভাবনা থাকে।

তিনি বলেন, সরকার ও বিএসআরএম-এর সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশ কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়নকে একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে চাই।

এ সময় আরিফুল হক চৌধুরী আরও বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সহায়তা নিয়ে যৌথভাবে টিটিসিকে আরও গতিশীল করার জন্য যা যা প্রয়োজন, তা করা হবে।

তিনি বলেন, জনবল সংকট আছে। সেই জনবল নিতে গেলে আরও ছয় মাস একবছর চলে যাবে। এখন আমাদের পেছনে তাকাবার সময় নেই।

মন্ত্রী আরও বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে চট্টগ্রামের মেয়র অনেক কিছু করেছেন, এটাও চট্টগ্রামের শ্রমিকদের জন্য করতে উনি এগিয়ে আসছেন।

চট্টগ্রামের শ্রম আদালতের অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধানের দ্রুত আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এ ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

একজন সিনিয়র কর্মকর্তা ও একজন প্রকৌশলী দিয়ে দ্রুত পরিদর্শন পূর্বক কনফারেন্স রুম, নারী বিচারপ্রার্থীদের জন্য আলাদা বসার কক্ষ, লিগ্যাল এইড সম্পর্কিত যা যা প্রয়োজন হয় সেসব দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো. ফরহাদ সিদ্দিকের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার, চট্টগ্রামের ২য় শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ড. বেগম জেবুন্নেছা, চট্টগ্রাম ১ম শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান জেলা ও দায়রা জজ ওসমান গনি ও বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের পরিচালক হাফেজ আহমদ মজুমদার প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights